fbpx
কলকাতাহেডলাইন

দিদির নেতা মন্ত্রীরা সৎ হলে জেল খাটছে কেন: দিলীপ ঘোষ

শরণানন্দ দাস ,কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্নীতির অভিযোগ যতই ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করুন গেরুয়া শিবির ছাড়ছে না। বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বৃহস্পতিবার আমফান দুর্নীতির স্বতন্ত্র সংস্থাকে দিয়ে তদন্তের দাবিতে চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রীকে। পাশাপাশি তৃণমূল নেত্রীকে তোপ, ‘ আপনার নেতা মন্ত্রীরা এতো সৎ হলে জেল খাটছেন কেন? কেন ইডি, সিবিআইয়ের সামনে ‘ প্যারেড’ করতে যেতে হচ্ছে!’ একইসঙ্গে টিপ্পনী, ‘ বাম আমলে দুর্নীতি ছিল না বলছি না। কিন্তু ওদের কোন নেতা মন্ত্রী জেলে যায়নি।’

প্রসঙ্গত বুধবার মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন’, বাম আমলে ৯০ শতাংশ দুর্নীতি হতো, আমাদের ১০ শতাংশ দুর্নীতি হয়েছে। তাই নিয়ে বিরোধীরা ইস্যু করছে।’ সেই প্রসঙ্গেই মেদিনীপুরের বিজেপি সাংসদ বলেন, ‘ তৃণমূলের পঞ্চায়েতের সদস্য থেকে সাংসদ সবার জামায় কালির ছিটে। আপাদমস্তক দুর্নীতিতে ডুবে রয়েছে। দিদির আমলেই সবচেয়ে বড়ো ৮০ হাজার কোটি টাকার চিটফান্ড কেলেঙ্কারি হয়েছে। সব প্রকল্প থেকে কাটমানি খাচ্ছে তৃণমূলের নেতারা। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার এক একটি বাড়িপিছু ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত কাটমানি খেয়েছে। তাই সুন্দরবন এলাকায় এতো কাঁচা বাড়ি আমফান ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলো। আম্ফানের ত্রাণ নিয়ে ব‌্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। রামনগর ১ নম্বর মণ্ডল সভাপতির পাঁচজন আত্মীয় ক্ষতিপূরণের টাকা আত্মসাৎ করেছে। যাদের বাড়ি আদৌ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। আমার ওয়েবসাইটে আমফান দুর্নীতি নিয়ে ১০৫৬ জনের অভিযোগ এসেছে। আজই আমি মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে আমফান দুর্নীতিতে স্বতন্ত্র সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করার অনুরোধ করেছি। যাঁরা দুর্নীতিতে জড়িত তাঁরা যেন আইনের সাজা পান।’

মুখ্যমন্ত্রী বারবার অভিযোগ করেন কেন্দ্রীয় সাহায্য পাননি। কিন্তু এই অভিযোগ ঠিক নয় বলে দাবি করলেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মিথ্যা কথা বলেছেন। রেভিনিউ ডেফিসিট গ্রান্ট বাবদ প্রথমেই রাজ্য পেয়েছে ৪১৭ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা। এরপর রুরাল লোকাল বডি গ্রান্ট ১১০৩ কোটি টাকা, আমফানের পর প্রধানমন্ত্রী দিয়ে গেলেন আরও ১০০০ কোটি টাকা। মানুষ সব দেখছে। আমি আজ যে চিঠি লিখেছি, সেখানেও এই বিষয়টা জানিয়েছি। এছাড়াও আর একটি বিষয় জানিয়েছি। পরিযায়ী শ্রমিকরা রেশন নিয়ে সমস্যায় পড়েছিলেন। আমি তাই এইধরনের সমস্যা ভবিষ‌তে যাতে না হয় সেইজন্য ‘ ওয়ান নেশান, ওয়ান রেশন কার্ড আমাদের রাজ্যে চালু করার জন্য বলেছি। মৎস্যজীবী যাঁদের নৌকা ভেঙে গিয়েছে তাঁদের ১০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে বলেছি।’

আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে সমস্ত চিকিৎসা শুরু হওয়ায় কর্মবিরতি উঠে গেল মেডিক্যাল কলেজে

রাজ্যে নতুন করে কনটেনমেন্ট জোন ও লকভাউন প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন,’ প্রথম থেকেই মুখ্যমন্ত্রী নিজেই লকডাউন মানেননি। তাই পশ্চিমবঙ্গে সঠিকভাবে লকডাউন কখনও হয়নি। সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় লকডাউন জরুরী। সুতরাং বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো যেন না হয়। শুধু মুখে বলে করোনাকে রোখা যাবে না।’

Related Articles

Back to top button
Close