fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণদেশব্লগহেডলাইন

ভারতকে কেন কোণঠাসা করছে প্রতিবেশী তিনটি দেশ!

আর কে সিনহা: ভারতের দুই শত্রু দেশ পাকিস্তান ও চিন নিজেদের দুষ্কর্ম করার অভ্যাস থেকে পিছুপা হয়নি। করোনার বিরুদ্ধে বিশ্বের প্রতিটি দেশ যখন লড়াই করে চলেছে। তখন এই দুই দেশ ভারতের সীমান্তে কাছে নোংরামো করে চলেছে।নির্দিষ্ট রণনীতি মেনে এই দুই দেশ ভারতকে ঘিরে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে? তবে এদের থেকে আর কি বা প্রত্যাশা করা যায়। এরা বৈদেশিক ও সামরিক নীতি অবলম্বন করে ভারতকে আহত করাই এদের লক্ষ্য। ভারতে অস্থিরতা তৈরি করতে এরা সব সময় মুখিয়ে থাকে। সিকিমে ভারতীয় সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছে চিন। যার জেরে ভারত ও চিনের সেনাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। দুই দেশের সৈন্যদের মধ্যে এই সংঘাত মারাত্মক রূপ নিয়েছিল।

এই ঘটনায় উভয় পক্ষের সৈন্যরাও আহত হয়েছেন। দীর্ঘ সময় পড়ে উত্তর সিকিম অঞ্চলে ভারত ও চিনের সৈন্যদের মধ্যে এমন সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হল। অন্যদিকে, চিনের চেলা পাকিস্তানও নিয়মিত নিয়ন্ত্রণরেখায় গোলা বর্ষণ করে যাচ্ছে। প্রতিবারই ভারতীয় সেনাবাহিনীর এই গোলাবর্ষণের উপযুক্ত উপযুক্ত জবাব দিয়েছে। পাকিস্তান নিয়মিত মার খেতে ভালোবাসে।

মার খাওয়ার রসদ তার প্রয়োজন। ভারত থেকে মার খাওয়ার অভ্যাস পাকিস্তানের। সেই অভ্যাস সে ছাড়তে পারছে না। লাথি না খেলে পাকিস্তানের স্বাস্থ্যের অবনতি হয়। জম্মু ও কাশ্মীরের হান্ডওয়ারায় সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তান আরও একটি সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের আশঙ্কা করেছিল। এখন ভারতও সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানকে মার দেওয়া শুরু করে দিয়েছে। উরিতে সন্ত্রাসবাদী হামলার পর ভারত সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করেছিল।

এরপরে, পুলওয়ামায় সিআরপিএফের কনভয়ে সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বালাকোটে সন্ত্রাসীদের শিবিরগুলি ধ্বংস করে দেয় ভারত। এখন ভারতও প্রেমের চিঠি লেখার অভ্যাস ছেড়ে দিয়েছে। এখন পাকিস্তানের হামলার নিন্দা বা কঠোর নিন্দা করে ভারত আর চুপ থাকে না। ভারতের রণ কৌশলবিদরা এখন বুঝতে পেরেছেন যে পাকিস্তান একটি শীর্ষ-শ্রেণীর নির্লজ্জ এবং স্বভাবজাত কুটিল দেশ। বৈঠক বা আলোচনা করে তাদের বোঝানো যাবে না।

পাকিস্তানের চিকিৎসা হচ্ছে তাদের বাড়িতে ঢুকে সন্ত্রাসীদের মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া। এই পদ্ধতিটিতে সাফল্যও এসেছে। তবে পাকিস্তানে বিমান হামলার সময় ভারত সাধারণ পাকিস্তানি নাগরিকের কোনও ক্ষতি করেনি। ভারত বিশ্বাস করে যে সেখানকার মানুষ দারিদ্র্যতা, নিরক্ষরতা এবং মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে লড়াই করছে। সেখানকার লোকদের প্রতি ভারতের কোনও প্রকার অবজ্ঞা নেই।তবে, বিপরীতে, পাকিস্তান ভারতীয় নাগরিক, মহিলা এবং শিশুদের উপর গুলি চালাতে মোটেও পিছুপা হয় না।

আমরা যদি আবার চিনা সেনাবাহিনীর কথা বলি, তবে ডোকলাম কাণ্ডে পর তাদের আর বিশ্বাস করা যায় না। ভারত-চিন এবং ভুটানের কৌশলগত সীমান্ত ডোকলামে দুই দেশের সেনাবাহিনী মুখোমুখি হয়েছিল, তখন ৫৮ বছর আগে ১৯৬২ সালের যুদ্ধের স্মৃতি সতেজ হয়ে গিয়েছিল। আসলে, ভারত সর্বদা চিনের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করতে ছেয়ে ছিল। কিন্তু চিনের মনোভাব বরাবরই আলাদা ছিল। তবে ডোকলাম কাণ্ডে ভারতের সামরিক শক্তি সম্পর্কে অবগত হয় চিন।

সমগ্র বিশ্বে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়া চিন এখন গোটা বিশ্বের কাছে মানবতার নাম কলঙ্ক। এটা সত্যিই ভারতের জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের যে, চিন ও পাকিস্তানের মতো দু’টি শত্রুভাবাপন্ন প্রতিবেশী পেয়েছে ভারত। ভারত-চিনের মধ্যে বছরে প্রায় ১০০ বিলিয়ন টাকার ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে।

চিনকে মোক্ষম জবাব দেওয়ার সময় এসে গিয়েছে। চিন ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার, তবে সে দেশের সঙ্গে ভারতের ২৯ বিলিয়ন টাকার বিপুল ব্যবসা ঘাটতি রয়েছে।

অর্থাৎ চিন বিপুল মুনাফার লাভের স্থিতিতে রয়েছে। তা সত্বেও চিন ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে না। চিন থেকে বিপুল পরিমাণে আমদানি হ্রাস করতে হবে ভারতকে এবং চোরাপথে আসা চিনের পণ্যগুলি পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে, যাতে তাঁদের আর্থিক কোমর ভেঙে যায়। ভারতকেও চিনের প্রতি নির্ভরতা হ্রাস করতে হবে। শুধু তাই নয়, করোনা-প্রকোপের কারণে চিনের বাইরে যাওয়া জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার কোম্পানি গুলিকে ভারতে বিনিয়োগ করার জন্য লোভনীয় আমন্ত্রণ জানাতে হবে ভারতকে। ভারতে ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে উন্নীত করার এটাই শ্রেষ্ঠ সময় ও সুযোগ। এই সুযোগকে কোনওভাবেই হাতছাড়া করা যাবে না।

অর্থাৎ চিনকে দু’দিক থেকে আক্রমণ করতে হবে। প্রথমত, চিন থেকে আমদানি হ্রাস করতে হবে। দ্বিতীয়ত, চিন থেকে নিজেদের বিনিয়োগ বাইরে নিয়ে যাওয়া কোম্পানিগুলিকে ভারতে ডাকতে হবে।

এই দু’টি পদক্ষেপে চিন চোখে অন্ধকার দেখবে। বিশ্ব জুড়ে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে চিনকে এখন বিশ্বের প্রতিটি মানুষ ঘৃণার নজরে দেখছে। কোনও সন্দেহ নেই যে, একবার করোনাকে পরাজিত করার পর, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ চিনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে শুরু করবে। নিজেরাই উচিত শিক্ষা পাবে। ভারত তো চিনকে দূরে ঠেলে দেওয়াও শুরু করে দিয়েছে। এজন্য তাঁরা দুঃখিতও।

তাঁদের নেতারা ঘেমে যাচ্ছে। আসলে সম্প্রতি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) নিয়মে কূটনৈতিক পরিবর্তন এনেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিবেশী কোনও দেশের কোনও কোম্পানি ভারতের যে কোনও সেক্টরে বিনিয়োগ করতে চাইলে সর্বাগ্রে সরকারের সবুজ সংকেত নিতে হবে। এই সিদ্ধান্তের পরই চিন বলতে শুরু করেছে, ভারতের এই সিদ্ধান্ত ডাব্লিউটিও-র বিধি লঙ্ঘনের সামিল এবং মুক্ত বাণিজ্যের সাধারণ প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে। এবার চিনকে নত হতেই হবে।

এরইমধ্যে চিন ও পাকিস্তানের পর আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু নেপালও চোখ দেখানো শুরু করেছে। আসলে গত শুক্রবার কৈলাস-মানস সরোবরের সংযোগকারী ৯০ কিলোমিটার রাস্তার উদ্বোধন করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।

ওই রাস্তা উত্তরাখণ্ডের ঘটিয়াবাগড়কে হিমালয়ের লিপুলেখের সঙ্গে সংযুক্ত করে। এই কারণে নেপাল ক্ষুব্ধ, অথবা চিন উস্কানি দিচ্ছে। নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের সামনে নেপালি মানুষজন বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। যদিও,  ওই রাস্তা থেকে পশ্চিম নেপালের লক্ষ লক্ষ নাগরিক যাঁরা জীবিকা নির্বাহের জন্য ভারতে আসেন,  তাঁরা উপকৃত হবেন কিন্তু,  নেপালের মার্কসবাদীরা চিনের নজরেই দেখছেন।

পাকিস্তানের সঙ্গে চিনের ঘনিষ্ঠ নেপালও কী বিশেষ উদ্দেশে ভারতকে ঘেরাও করছে? এই তিনটি দেশের সঙ্গে একসঙ্গে অথবা আলাদা আলাদাভাবে লড়াই করতে সক্ষম ভারত। কিন্তু, এই তিন দেশের গতিবিধির উপর তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে ভারতকে। নেপালের শাসকদের বোঝাতে হবে। নেপাল তো এমন একটি পাহাড়ি দেশ, যাদের সমস্ত আদানপ্রদান ভারতের মাধ্যমেই হয়।ভারতের সঙ্গে তিক্ততা তাঁদের কীভাবে উপকৃত করবে।

(লেখকের মতামত ব্যক্তিগত)

Related Articles

Back to top button
Close