fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বাণিজ্যে বাধা কেন? জানতে চেয়ে ফের রাজীব সিনহাকে চিঠি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবের

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: লকডাউনের জেরে একটানা ৩৭ দিন পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য খুলেছিল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত । যদিও এরাজ্যের সীমান্ত লাগোয়া গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের জেরে বন্ধ করতে হয়েছে বাণিজ্য। যা নিয়ে ইতিমধ্যে চালু হয়েছে রাজনৈতিক চাপান উতর। লকডাউন চললেও আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলে অনেক আগেই অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ থেকে ভারতে ট্রাক ঢোকার প্রক্রিয়া কেন শুরু হয়নি তা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব রাজীব সিনহাকে চিঠি দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব অজয় ভাল্লা। স্বরাষ্ট্রসচিবের স্পষ্ট বক্তব্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ অবমাননা করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার শুধু আইন লঙ্ঘন করেনি। তা সংবিধানের ২৫৩, ২৫৬ এবং ২৫৭ ধারা লঙ্ঘনেরও সামিল। মঙ্গলবার ওই রাজ্যের মুখ্যসচিবকে ওই চিঠি পাঠিয়েছেন স্বরাষ্ট্রসচিব। চিঠিতে অজয় ভাল্লা জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একতরফা পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক প্রভাব ফেলবে।

অজয় ভাল্লা লিখেছেন, ২৪ এপ্রিল সমস্ত ইন্দো-নেপাল, ইন্দো-ভুটান এবং ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্তের মাধ্যমে অত্যাবশকীয় পণ্য পরিবহনের অনুমতি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এবং রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরের থেকে সম্মতি চাওয়া হয়েছিল। এই বিষয়ে, আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি যে আমরা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছ থেকে সম্মতি রিপোর্ট পাইনি।” অজয় ভাল্লার দাবি, ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে পণ্য পরিবহন আবারও শুরু করা যায়নি। বাংলাদেশ থেকে ফেরার সময় অনেক ট্রাক চালককে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। চালকরা বাংলাদেশে আটকে পড়েছেন। বিভিন্ন সীমান্ত ক্রসিং পয়েন্টে অনেক ট্রাক আটকে রয়েছে।

আরও পড়ুন: করোনা গবেষকের মৃত্যু ঘিরে রহস্য… চিনা হওয়ার কারণেই কী এই অস্বাভাবিক মৃত্যু!

মুখ্যসচিবকে লেখা চিঠিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব আরও বলেছেন, গত ১ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক যে নতুন গাইড লাইন প্রকাশ করেছিল, তাতেও স্পষ্ট লেখা রয়েছে যে কোনও রাজ্য বা কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য আটকাতে পারবে না। তাঁর কথায়, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এক তরফা ভাবে সীমান্ত বরাবর বাণিজ্যের পথে বাধা হচ্ছে তা ভারত সরকারকে আন্তর্জাতিক চুক্তি রূপায়ণে সমস্যা তৈরি করছে। এই সব আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি আইনত সিদ্ধ। পশ্চিমবঙ্গ শুধু বিপর্যয় মোকাবিলা আইনের শর্ত লঙ্ঘন করছে তা নয়, সংবিধানের ২৫৩, ২৫৬ ও ২৫৭ ধারার লঙ্ঘনও করা হচ্ছে।

এ কথা জানিয়ে, মুখ্যসচিব রাজীব সিনহাকে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে অবিলম্বে সীমান্ত বরাবর বাণিজ্যের পথ খুলে দেওয়ার জন্য পদক্ষেপ করতে। সেই সঙ্গে এ ব্যাপারে দ্রুত রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে তাঁকে। ২৫৬ ধারাতেও বলা হয়েছে, সংসদে পাশ করা কোনও আইন প্রনয়ণের ব্যাপারে কেন্দ্রের নির্দেশ মেনে চলতে হবে রাজ্য সরকারকে। তা ছাড়া সংবিধানের ২৫৭ ধারায় বলা হয়েছে, কেন্দ্র আইন মেনে কোনও প্রশাসনিক নির্দেশ দিলে রাজ্য তার প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে তাতে বাধা তৈরি করতে পারবে না।

Related Articles

Back to top button
Close