fbpx
অন্যান্যহেডলাইন

ভারতের প্রতি কেন মুখিয়ে বিশ্বের বিনিয়োগকারীরা

আর কে সিনহা:  করোনার সঙ্কটময় পরিস্থিতি ও নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতীয় নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত সুখবর। সুসংবাদ হল এটা যে, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে আগস্টের মধ্যে, ৩৫.৭৩ বিলিয়ন টাকার প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ভারতে এসেছে। পূর্ববর্তী কোনও আর্থিক বছরে, পাঁচ মাসে এটাই সর্বোচ্চ এবং ২০১৯-২০২০-র প্রথম পাঁচ মাসের ৩১.৬০ বিলিয়ন টাকা বিনিয়োগের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি। সত্যিই বিশাল পরিমাণ অর্থ এবং দেশের অর্থনৈতিক বিকাশের ক্ষেত্রে মাইলফলক হিসাবে প্রমাণিত হতে পারে। এই অর্থের সৌজন্যে দেশে নতুন নতুন শিল্পের সংস্থান হবে এবং কর্মসংস্থানও হবে। এফডিআই আসলে কী? আসলে কোনও একটি দেশের কোম্পানি অন্য কোনও দেশে বিনোয়োগ করাকেই এফডিআই বলে। এফডিআই দু’ধরনের। প্রথমত গ্রিন ফিল্ড প্রোজেক্টে। ভারতে যখন কোনও কোম্পানি স্থাপিত হয় এবং সেই কোম্পানিতে অন্য দেশের কোম্পানি বিনিয়োগ করে, তাকেই গ্রিন ফিল্ড এফডিআই বলা হয়। অপরটি হল, কোনও বিদেশী কোম্পানি যদি আগে থেকে চলতে থাকা কোনও কোম্পানির শেয়ার কিনে নেয়। উদাহরণ স্বরূপ, সিঙ্গাপুরের সভরেন ওয়েলথ ফান্ড জিআইসি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাঁরা রিলায়েন্স রিটেইল ভেঞ্চারস লিমিটেডের মাত্র ১.২২ শতাংশ শেয়ার কিনতে ৫,৫১২.৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। এটাই হল এফডিআই। ভারতে দ্রুত বেড়ে চলা এফডিআই নিয়ে কথা বলা যাক। এখন এই বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া উচিত যে, অন্যান্য দেশ থেকে আসা মূলধন থেকেই অনেক কোম্পানি তাঁদের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে। এর ফলে বিদেশী কোম্পানিও লাভের অংশ পায়, যাঁরা ভারতীয় কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছেন।

এফডিআই প্রবাহ দ্রুত হোক :

ভারতে এফডিআই-এর প্রবাহ দ্রুত হোক, বিগত ৬ বছরে এই প্রচেষ্টায় চালিয়েছে মোদী সরকার। সরকার এটা ভালো করেই জানে, বৃহৎ এফডিআই ছাড়া দেশের প্রত্যাশিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য বহু প্রচেষ্টা করেছে মোদি সরকার। এফডিআই নিঃসন্দেহে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালক। সমস্ত সরকারের সর্বদা এটাই প্রচেষ্টা ছিল যে, সক্ষম এবং বিনিয়োগকারী বান্ধব এফডিআই নীতি বাস্তবায়ন করা। যদিও বিরোধী দল, বিপথগামী এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন কিছু বুদ্ধিজীবী আর্থিক নীতি নিয়ে বিনা কারণেই কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করছেন, তবে সর্বশেষ এফডিআই প্রবাহ তথ্য অনুযায়ী, করোনা-পরিস্থিতিতেও ভারতে বিনিয়োগ করা ঠিক বলে মনে করছেন বিদেশী বিনিয়োগকারীরা। ভারতে বিনিয়োগ করলে তাঁদের ক্ষতি হবে না, এটা তাঁরা ভালো করেই জানেন। তাঁরা ভারত থেকে কিছু আয় করেই যাবেন। আয় করতেই তাঁরা এসেছেন এতে ভুল কিছু নেই।

সরকারের তিক্ত সমালোচকরাও সৌজন্যের খাতিরে এফডিআই-এর অভূতপূর্ব আগমণকে স্বাগত জানাবেন ইটা তো প্রত্যাশিত। অনেকেই বলছেন, এফডিআই-তে নীতিগত সংস্কার, এফডিআইতে বিনোয়োগে স্বাচ্ছন্দ্যের ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের জন্য দেশে এফডিআই বেড়েছে। কিন্তু, দুঃখের বিষয় সমালোচকরা এটা মানবেন না। দেশের গণতন্ত্রের জন্য এটা মোটেও মনোরম পরিস্থিতি নয়। সরকারের যে কোনও নীতির তীব্র নিন্দা করার অধিকার রয়েছে আপনার। তবে, সরকার যদি ভালো কিছু করে তখন কেন মুখ বন্ধ থাকবে? এই মানবিকতা গ্রহণযোগ্য নয়।

উদার মনে কে দেবে টাকা :

একদিকে ভারতে এফডিআই আসছে, অপরদিকে প্রবাসী ভারতীয়রা উদার মনে ভারতে অর্থ পাঠাচ্ছেন। ২০১৮ সালে প্রায় ৮০ বিলিয়ন টাকা তাঁরা ভারতে পাঠিয়েছেন। ২০১৭ সালে ৬৯ বিলিয়ন টাকা পাঠিয়েছিলেন তাঁরা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী ভারতীয়রা দু’হাত তুলে নিজেদের মাতৃভূমির জন্য অর্থ দিচ্ছেন। মূলত উপসাগরীয় দেশগুলিতে বসবাসরত কয়েক মিলিয়ন ভারতীয়ের কাছ থেকে ভারতে প্রচুর অর্থের আগমন হচ্ছে। বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মতো দেশ এর মধ্যে রয়েছে। এই সমস্ত দেশগুলিতে বসবাসকারী কঠোর পরিশ্রমী ভারতীয়রা ছোট ব্যবসায়ী থেকে বড় ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছেন। তাঁদের মধ্যে কার্পেন্টার, প্লাম্বার এবং ইলেক্ট্রিশিয়ান থেকে শুরু করে কেরলের মালয়ালি নার্স এবং তরুণ প্রকৌশলী, চিকিৎসক, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারও পেয়ে যাবেন।

উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার জন্য সর্বদা প্রচেষ্টারত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ইতিবাচক ফলাফলও হাতেনাতে মিলছে। উপসাগরীয় দেশে শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। উপসাগরীয় দেশগুলিতে কর্মরত ভারতীয়রা যাতে সম্মানের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন, সেই চেষ্টা করতে হবে সরকারকে। যদি তাঁরা ভালভাবে কাজ করতে পারেন, তাহলে তাঁরা দেশেও অর্থ পাঠাবেন। এবার হয়তো আপনি বুঝতে পেরেছেন, বিদেশী এবং প্রবাসী ভারতীয়রা এ বিষয়ে নিশ্চিত যে, তাঁদের ভারতে বিনিয়োগই তাঁদের শ্রেষ্ঠ রিটার্ন দিয়ে যাবে। যদি তাঁদের এই বিশ্বাস না হতো, তাহলে কখনই ভারতে বিনিয়োগ করতেন না। এটাই ভারতীয় অর্থনীতির শক্তি চিত্রিত করে।

Related Articles

Back to top button
Close