fbpx
একনজরে আজকের যুগশঙ্খকলকাতাহেডলাইন

কিষাণ নিধিতে বাধা কেন? মমতাকে প্রশ্ন দিলীপের

শরণানন্দ দাস, কলকাতা: আচমকা কৃষক দরদি হয়ে উঠেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।শুক্রবার এমন অভিযোগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এদিন ফোনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আন্দোলনকারী কৃষকদের পাশে থাকার বার্তা দেওয়ার ঘটনাকে ‘নিছক রাজনীতি’ বলেই কটাক্ষ করেছেন তিনি। তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, এতই যদি কৃষকদের স্বার্থ নিয়ে ভাবেন, তাহলে বাংলায় কিষান সম্মান নিধি প্রকল্প চালু করেননি কেন?

বঙ্গ বিজেপির সভাপতির মতে, ‘একুশের ভোটযুদ্ধের আগে তৃণমূল নেত্রীর এই তৎপরতা আদতে বাংলার কৃষকদের  আবেগ নিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা। তাঁর প্রশ্ন, ‘কেন আগে কৃষকদের হয়ে মমতা সওয়াল করলেন না’? মমতাকে কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘কৃষকদের আন্দোলন জারি রাখার আবেদন জানিয়েছেন, বাংলা থেকে সবরকমের সাহা্য্যের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু আমরা বলছি, দিদি, আগে নামেননি কেন? কৃষকরা আন্দোলনে নেমে গেলেন, তারপর নামছেন! কৃষকদের সুরক্ষার যে আইন পাশ হয়েছে, তার পক্ষে মিছিল হয়েছে।কৃষকরা সারা ভারতে বিশেষ সম্মান নিধি পেলেন। পশ্চিমবঙ্গে একজনও পাননি। তারপরেও বলতে হবে কৃষকরা কার পক্ষে?’

এদিন দক্ষিণ কলকাতার জোকায় দিলীপ ঘোষের চা চক্র  জনসভার আকার নেয়। এখানে তিনি অভিযোগ করেন, ‘ আমরা উদ্বাস্তু , শরণার্থীদের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের মাধ্যমে  নাগরিকত্ব দিতে চাইছি। অথচ তৃণমূল কংগ্রেস ধারাবাহিকভাবে বাধা দিয়েছে। এখন ওরাই বাংলাদেশ থেকে লোক এনে আপনাদের উদ্বাস্তু করতে চাইছে।’ মেদিনীপুরের সাংসদ কটাক্ষ করে বলেন, ‘ মুখ্যমন্ত্রীর এখন সব থেকে বড়ো টেনশন কখন কোন নেতা দল ছেড়ে দেয়। নেতা মন্ত্রীদের আটকাতে পুলিশ লাগিয়েছেন মমতা। বিজেপির কাউন্সিলররা সবাই লাইন দিয়ে রয়েছেন কবে তাদের হাতে পতাকা তুলে দেবো।’ শুভেন্দু ইস্যুতেই  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই খোঁচা, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আরও পড়ুন: নাবালিকাকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটল নিউটাউনে, গ্রেফতার ৪

বিজেপি রাজ্য সভাপতি এদিন পুলিশের সম্মান তৃণমূলের আমলে নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। জোকার চা চক্রে তিনি বলেন, ‘ তৃণমূলের জমানায় উর্দির সম্মান নষ্ট হয়েছে। বীরভূমই তার প্রমাণ। ‘  অনুব্রত মণ্ডলকে কটাক্ষ করেই এই মন্তব্য তা নিয়ে সন্দেহ নেই। এদিন পুলিশের প্রতি মমতা বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন এমন অভিযোগও করেন। তাঁর প্রশ্ন, ‘ ২০১৬ য় পুলিশকে ফ্ল্যাট দেবেন বলেছিলেন, দিয়েছেন কী?  আজ পর্যন্ত জমি খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিজেপি পুলিশের উর্দির সম্মান ফিরিয়ে দেবে। এ মাসেই আবার বেহালায় আসবো তখন তৃণমূল করার লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না। সিবিআই অ্যাক্টিভ হতেই দিদির ব্লাড প্রেসার বেড়ে গিয়েছে। মানুষের কাছে বিকল্প ছিল না, তাই তৃণমূলকে ঘাড়ে করে বেড়িয়েছে। করোনারি সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূলের ও বিসর্জন হয়ে যাবে।’ এদিন চা চক্রের মঞ্চ থেকে তিন হুঁশিয়ারি দেন, ‘ যাঁরা বিজেপির ঝাণ্ডা খুলেছে তাদের ঘাড় ধরে বিজেপিতে নিয়ে আসবো। খোকাবাবু আমাকে গুণ্ডা বলেছে। এসব বন্ধ করতে গুণ্ডামি করবো।’

এদিন তিনি তৃণমূলের ‘ জয় বাংলা’ শ্লোগানের সমালোচনা করে বলেন, ‘ ওরা জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে পশ্চিমবাংলাকে পশ্চিম বাংলাদেশ বানানোর চক্রান্ত করছে। দিদি জয়শ্রী রাম শুনলে আঁতকে ওঠেন কেন?’

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close