fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

সৈকত নগরী দিঘার বালি স্তুপ থেকে মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার স্বামী

মিলন পন্ডা ও বিষ্ণুপদ পণ্ডা, দিঘা (পূর্ব মেদিনীপুর): সৈকত নগরী দিঘায় বালির মধ্যে আড়ি পোঁতা অবস্থায় মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রোমাঞ্চকর তথ্য সামনে আনল পুলিশ। দ্বিতীয় স্ত্রীকে গভীর রাতে খুন করার পর সৈকতের বালি আড়িতে পুতো দিয়েছে স্বামী। সেই নারকীয় হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে স্ত্রী নিখোঁজ হয়েছে বলে দিঘার থানার অভিযোগ জানাতে আসে কীর্তিমান স্বামী।

কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। কেঁচে কুড়তে গিয়ে কেঁউটে উদ্ধার করল দিঘা থানার পুলিশ। অবশেষে মঙ্গলবার বিকালে বালি স্তুপ থেকে মৃত গৃহবধূর দেহ উদ্ধারের পর গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার বিকালে মৃত গৃহবধুর স্বামী শেখ সাব্বিরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে মৃত ওই গৃহবধূর নাম সাবিনা বিবি (৩৩)। তার বাড়ি নদিয়া জেলার শান্তিপুর এলাকায়।

পুলিশ বালি স্তুপ থেকে মৃতদেহ উদ্ধারের পর স্বামী শেখ সাব্বির পালিয়ে যাওয়ায় ঘটনার রহস্য ঘনীভূত হতে থাকে। এরপর স্বামী সাব্বিরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের পর একের পর এক পুলিশের সামনে নারকীয় হত্যাকাণ্ড তথ্য সামনে চলে আসে। জিজ্ঞাসাবাদে নৃশংস খুনের কাহিনী স্বীকার করেছে স্বামী সাব্বির বলে পুলিশের দাবি।

লকডাউনে কারনে আর্থিক অভাব ও সাংসারিক অশান্তির জেরে স্ত্রীকে খুন করেছে বলেই পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানায় সাব্বির। যদিও এই ঘটনা সত্যি কিনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ঘটনার সঙ্গে ত্রিকোন প্রেমের কাহিনী জড়িত রয়েছে কিনা সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে গত দশ -বারো বছর আগেই নদীয়া জেলার শান্তিপুর থেকে সাব্বির সাকিনাকে বিয়ে করে দিঘার চলে আসে। এরপর দিঘার প্রদিমাতে সরকারী জায়গার হোগলা করে থাকতে শুরু করেন। সাব্বিরের আগের স্ত্রী নদীয়া শান্তিপুরে রয়েছে। সাব্বির দিঘায় রিক্সা চালাতে শুরু করেন। সাব্বিরের নয় বছরের কন্যা সন্তান ও সাত বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে দিঘা থানায় এসে সাব্বির জানায় গভীর রাত থেকে স্ত্রী বাড়ি থেকে আচমকাই নিখোঁজ হয়ে গেছে।স্ত্রীকে খুঁজে পেতে থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করে। দিঘা থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় একদিন না হলে থানায় কোন মিসিং ডায়েরি নেওয়া হবে না। এই ঘটনার পর পুলিশের কাছ থেকে চলে যায় সাব্বির।

মঙ্গলবার বিকালে বাড়ি থেকে কিছু দূরে বালি আড়িতে মায়ের পরনের শাড়ি দেখতে পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে শিশুকন্যাটি ছুটে এসে প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানায়।

প্রতিবেশীরা ছুটে গিয়ে দেখে বালি আড়ি মধ্যে পোঁতা রয়েছে ওই গৃহবধূ। এরপর তারা দীঘা থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে বালির স্তুপ মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এরপর শিশুকন্যা মায়ের মৃতদেহ শনাক্ত করেন। বুধবার মৃতদেহটি ময়না তদন্তের জন্য কাঁথি মহাকুমা হাসপাতালে পাঠায় দিঘা থানার পুলিশ। পাশাপাশি দুই শিশুকে শিশু কল্যান সমিতিতে পাঠায় পুলিশ। এদিন দুপুরে পুরো ঘটনাটির তদন্ত করা হয়।

দিঘা থানার এক পুলিশ আধিকারিকের কথায় এই ঘটনার মৃত গৃহবধূর স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মৃত গৃহবধূকে কাঁথি হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button
Close