fbpx
আন্তর্জাতিকএকনজরে আজকের যুগশঙ্খগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

বাংলাদেশ কি ফের ধর্মনিরপেক্ষ হবে? অশান্তির মধ্যেই ইঙ্গিত হাসিনার

নিজস্ব প্রতিনিধি: শারদোৎসবের আনন্দ ম্লান হয়ে গিয়েছে বাংলাদেশে। গত বুধবার অষ্টমীতে দুর্গামণ্ডপ ভাংচুরের পাশাপাশি আক্রান্ত হয়েছেন বহু হিন্দু পরিবার। আর বাংলাদেশে এই সাম্প্রদায়িক হিংসার মধ্যেই ধর্মনিরপেক্ষতায় ফেরার ইঙ্গিত দিলেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে শেখ হাসিনা যে বিবৃতি দিয়েছেন, তাতে এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। হাসিনা বলেছেন, “বাংলাদেশে সকল ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করবে। যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে। একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের এটাই ‘মূল মন্ত্র’।”

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষতার পথে ফেরার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে সে দেশের তথ্য দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী মুরাদ হাসানের মন্তব্যে। তিনি বলেন, ১৯৭২-এর ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানে ফেরাতে শীঘ্রই সংসদে একটি বিল পেশ হবে। সেই বিলটি  সর্বসম্মতভাবে পাশ করিয়ে নেওয়ার ব্যাপারেও আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশের শাসক দল আওয়ামি লিগ।

উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশকে ‘ধর্মনিরপেক্ষ গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র’ হিসেবে ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। কিন্তু, ১৯৭৮ ও ১৯৯০ সালে সংবিধান সংশোধন করে বাংলাদেশের জাতীয় ধর্ম হয় ইসলাম। তবে এবার কী জাতীয় চরিত্রের বদল ঘটে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ হতে চায় শেখ হাসিনা সরকার?

এই সম্ভাবনা অত্যন্ত জোরালো হয়েছে পড়শি দেশে। অন্যদিকে সংখ্যালঘু হিন্দুদের মনোবল বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশ এক অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। বাংলাদেশে সকল ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করবে। যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে।”

সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, “ধর্ম যার যার, কিন্তু উৎসব সবার। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার”।

বঙ্গবন্ধু মুজিবর রহমান বলেছিলেন, “বাংলাদেশের মাটিতে সাম্প্রদায়িকতার কোনও স্থান নেই। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান… যাঁরা যাঁরা এ দেশে বসবাস করেন, তাঁরা প্রত্যেকেই এদেশের নাগরিক। প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁরা সম অধিকার ভোগ করবেন।”

সেই সূত্রেই এদিন শেখ হাসিনা  বলেন, “আপনারা সবসময় নিজেদের সংখ্যালঘু মনে করেন কেন? আপনারা প্রত্যেকে এই দেশেরই নাগরিক। এই মাটিতে আপনার জন্ম। এই মাটিতে যাঁদের জন্ম, তাঁরা এই মাটিরই সন্তান। আপনারা সবাই নিজের অধিকারে বসবাস করেন।” এতেই স্পষ্ট ধর্মনিরপেক্ষতার দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। তাদের তথ্য দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী মুরাদ হাসান বলেন, “আমরা শীঘ্রই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের প্রতিষ্ঠিত ১৯৭২ সালের সংবিধানে ফিরে যাব।”

এ ছাড়া সে দেশের একটি সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, মুরাদ হাসান আরও বলেছেন, “সামরিক শাসকরা ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করে বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষতার মূল আদর্শকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছে।”

তিনি সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তায় বলেছেন, “ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হতে পারে না। আমরা ১৯৭২ সালের সংবিধানে ফিরে যাব। আমরা সেই বিলটি  সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পাশ করিয়ে নেব। আমি মনে করি না কেউ এই বিলের বিরোধিতা করতে পারেন।”

Related Articles

Back to top button
Close