fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

আমি রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলেই কি সবাই বিজেপি হয়ে যাবে…তৃণমূলকে কটাক্ষ দিলীপ ঘোষের

মিলন পণ্ডা (পূর্ব মেদিনীপুর): মন্ত্রী, সাংসদ ও নেতারা এলাকায় দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মারণ করোনা ভাইরাস ও আমফান ঘৃণিঝড় ভয় পেলেন না। দিলীপ ঘোষকে ভয় পাচ্ছেন। এলাকায় গেলে সরকার পাল্টে যাবে নাকি? পূর্ব মেদিনীপুর এসে সংবাদ মাধ্যম কাছে এমনি মন্তব্য করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার পর পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষের গাড়ি আটকানোর অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পর বিজেপি কর্মী সর্মথকরা বিক্ষোভের ফেটে পড়ে। পুলিশের সঙ্গে বচসার জড়িয়ে পড়ে বিজেপি কর্মী সর্মথকরা। দিলীপ ঘোষের গাড়ি আটকানোর প্রতিবাদে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি কর্মী সর্মথকরা।

রবিবার সকাল থেকে আমফান বিধ্বস্ত পূর্ব মেদিনীপুরে বিস্তীর্ণ এলাকা পরিদর্শন করার কথা ছিল বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের। এলাকায় মানুষ কোমন আছেন তা দেখার জন্য এসেছিলেন। নন্দকুমার যাওয়ার পথে ৪১ নং জাতীয় সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় খঞ্চি এলাকায় দিলীপ ঘোষের গাড়ি আটকান কয়েকজন তৃণমূল কর্মী বলে বিজেপি অভিযোগ। জল ও বিদ্যুতের দাবি জানাতে থাকেন। তাদের মধ্যে অনেকের আবার ‘‘গো ব্যাক’’ স্লোগানও দিতে থাকে। এই ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত বলে বিজেপি অভিযোগ৷ এরপর দিলীপ ঘোষের গ্রামের রাস্তা ধরে চলে আসেন। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দকুমার ঢোকার দেড় কিলোমিটার শ্রীকৃষ্ণপুরের কাছে এলে নন্দকুমার থানার বিশাল পুলিশবাহিনী দিলীপ ঘোষের গাড়ি আটকের দেয়।

এরপর বিজেপি কর্মী সর্মথকরা উওেজিত হয়ে পড়েন। পুরো ঘটনার প্রতিবাদ জানান এবং ‘‘জয় শ্রী রাম’’ ধ্বনি তুলেন বিজেপি কর্মীরা সর্মথকরা। পুলিশের সঙ্গে বচসা জড়িয়ে পড়েন বিজেপি কর্মী সর্মথকরা। ঘটনা সামাল দিতে ছুটে আছে নন্দকুমার থানার পুলিশ বাহিনী, র্যা ফ ও কমব্যাট ফোর্স। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্যানিটাইজার ও মাস্ক বিলি করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। বেশ কিছুক্ষণ গাড়ি আটকে থাকার পর দিলীপ ঘোষ তমলুকে দিকে রওনা দেন। এরপর প্রতিবাদে বিজেপি কর্মী সর্মথকরা পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্তে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। এরপর হলদিয়া মেচেদা রাজ্য সড়কে মহিষাদল বাসস্ট্যান্ডের কাছে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি কর্মী সর্মথকরা। বিজেপি নেতা দ্বিগবিজয় পাল বলেন সামাজিক দুরত্ব বোঝায় করে দিলীপ ঘোষের গাড়ি আটকানোর প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো হয়।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষ বলেন তৃণমূলের মন্ত্রী-সাংসদ নেতারা এলাকায় দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। করোন ভাইরাস ও আমফান ঘূর্ণিঝড়কে ভয় পেলেন না। দিলীপ ঘোষকে ভয় পাচ্ছেন। আমি এখানে গেলে কি সরকার পাল্টে যাবে নাকি। আমি পূর্ব মেদিনীপুর এলে নেতা-মন্ত্রীরা খুব ভয় পায়। আমি হেঁটে গেলে সবাই বিজেপি হয়ে যাবে এমনটাই মনে করেন নেতা-মন্ত্রীরা। দিলীপবাবু আরও বলেন পুলিশের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এত পুলিশ প্রশাসন কি করতে আছে। এদের খালি খালি খালি পোষা হচ্ছে। একটা গাড়ি পার করতে এদের এতো প্রবলোম হচ্ছে। পুলিশ তৃণমুল লোকেদের ডেকে স্লোগান দিচ্ছে।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কণিষ্ক পণ্ডা বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর ঘুরে যাওয়ার পর বাচ্চা নেতার এলাকায় কি দরকার। বিজেপি একটাও ত্রাণ দিতে পারেনি। সেই ক্ষোপে বিজেপি কর্মীরা বিক্ষোভ দেখিয়েছে হয়তো। কণিষ্কবাবু আরও বলেন, কলকাতার যারা আসেন নন্দকুমারের করোনা পরীক্ষা করানো হয়। সেই হিসাবে পুলিশ আটকেছে হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে দিলীপ ঘোষের গাড়ি আটকানোর ঘটনার কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

Related Articles

Back to top button
Close