fbpx
গুরুত্বপূর্ণব্লগহেডলাইন

বন্ধু হয়ে ওঠা মালয়েশিয়া কি ভারতের হাতে জাকির নায়েককে তুলে দেবে!

 

রবীন্দ্র কিশোর সিনহা: মহাতির মহম্মদ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করার পরে, মনে হচ্ছে মালয়েশিয়াও আবার পুরনো ছন্দ ফিরে পেয়েছে। আগের তুলনায় মালয়েশিয়া আরও বেশি বাস্তববাদী হয়ে উঠেছে। এখন মালয়েশিয়া প্রকাশ্যে ভারতের বিরোধিতা করাটা প্রায় বন্ধ করে ফেলেছে। মালয়েশিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রী মহিউদ্দিন ইয়াসিনকে বেশি বুদ্ধিমান মনে হচ্ছে।

রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভার ভাষণ তিনি কোন ভারত বিরোধী বক্তব্য রাখেননি। তাঁর বক্তব্যের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল বিশ্ব কীভাবে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করবে। তার এই ভাষণ থেকে ইতিবাচক দিক পাওয়া গিয়েছে। মহিউদ্দিন ইয়াসিনের পূর্বসূর মহাতির মহম্মদ সর্বোচ্চ ভারতবিদ্বেষী বক্তব্য রাখতেন। উনি নির্লজ্জভাবে কাশ্মীর ও নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) সম্পর্কে বিবৃতি দিয়েছিলেন। তার বক্তব্যের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল ভারত। ভারত স্পষ্ট করে বলেছিল যে কাশ্মীর এবং সিএএ অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং মহাতির মহম্মদের কোনও অধিকার নেই এই বিষয়ে মন্তব্য করার। মহাতির মহম্মদ জাকির নায়েককে প্রকাশ্য সুরক্ষা দিতেন। এখন জাকির নায়েককে ভারতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা যেতে পারে। তার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা চালানো উচিত।

        আরও পড়ুন: এবার ভূমিকম্পে কাঁপল গুজরাট, সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বিজ্ঞানীরা

মহাতির মহম্মদের একের পর এক ভারত বিরোধী মন্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন। কেউ এখনও বুঝতে পারছে না যে কেন মহাতির জাকির নায়েককে ভারতের হাতে তুলে দেননি। অযথা কেন তিনি কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বিলুপ্তি এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। তিনি কার পরামর্শে এইসব কাজ করছিলেন। মহাতির প্রশ্ন তুলেছিলেন যে ভারতে যখন সবাই ৭০ বছর ধরে একসঙ্গে রয়েছে তখন নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রয়োজনীয়তা কেন হল। এই আইনের জন্য বহু মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে। মহাতির এমন দাবি যে অসত্য তা বলাই বাহুল্য।

রাষ্ট্রসঙ্ঘে মালয়েশিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রী মহিউদ্দিন ইয়াসিনের ভাষণ খুবই মাঝারি মানের ছিল। তিনি একজন বড় পরিপক্ক নেতা হিসেবে ভাষণ দিচ্ছিলেন। যে কোনও দেশের রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে প্রত্যাশাই থাকে যে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মত গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চটিকে ইতিবাচক ভাবে ব্যবহার করবেন। চলতি বছরের মার্চে মহিউদ্দিন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে তিনি এমন কোনও কাজ করেননি যা কোনওভাবেই ভারতকে রাগিয়ে তোলে। এক কথায় বলতে গেলে তিনি দুই দেশের সম্পর্কে মজবুত করার জন্য ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছেন। যাতে ভারতের সাথে তাদের দেশের সম্পর্ক আগের স্বাভাবিক থাকে।

  আরও পড়ুন: ওয়েইসি বঙ্গে এলে লাভ বিজেপির… মুসলিম ভোট ব্যাংকে থাবা বসাবে মিম: সিদ্দিকুল্লা

কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বিলুপ্তির পরে মহাতির দাবি করেছিলেন যে ভারত কাশ্মীর দখল নিল। তখন তিনি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বলেছিলেন যে ভারত কাশ্মীর দখল করেছে। ভারত নিজের যে কোন ভূখণ্ড নিয়ে সিদ্ধান্ত নিলেই অসুবিধা হত মহাতিরের। মনে হচ্ছিল তার আমলে মালয়েশিয়া পাকিস্তানের সঙ্গে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তিনি ইমরান খানের বিশেষ বন্ধু হিসাবে প্রকাশ্যে চলে এসেছিলেন। কিন্তু পাকিস্তানে যখন শিয়া মুসলমান থেকে শুরু করে আহমদিয়া এবং কাদিয়া সমাজে সহ হিন্দু, শিখ এবং খ্রিস্টানদের ওপর নির্যাতন চলত তখন তিনি মুখ বুজে থাকতেন।

মালয়েশিয়ায় প্রবাসী ভারতীয়দের হুমকি দিতেন

মহাতির মহম্মদ বলছিলেন, “আমি দুঃখ পেয়েছি যে ভারত যে নিজেকে ধর্মনিরপেক্ষ দেশ বলে দাবি করে থাকে সে কিছু মুসলমানের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নিচ্ছে। আমরা যদি আমাদের দেশে এটি করি তবে জানি না কী হবে? সর্বত্র বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা তৈরি হবে। এতে করে প্রভাবিত হবে সকলে। ” একরকমভাবে মহাতির সেখানে বসবাসকারী প্রায় ৩০ লাখ প্রবাসী ভারতীয়কে সতর্ক করে দিয়েছিল। গোটা বিশ্ব জানে যে মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়দের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে বিবেচিত করা হয়। তাদের মন্দিরগুলোকে ক্রমাগত ভাঙ্গা হয়। সেই সময় মহাতির নির্লজ্জের মত চুপ করে থাকতেন।

তবে মজার বিষয় হ’ল মহাতির সহ মালয়েশিয়ার প্রায় সকল মুসলমানের পূর্বপুরুষ হলেন অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু ও কেরলের পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চল থেকে জেলে ছিল। যাদেরকে লোভ দেখিয়ে বা জোর করে মুসলমানের পরিণত করে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এখন একটা প্রত্যাশা দেখা দিয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী মহিউদ্দিন ইয়াসিন তার দেশে বসতি স্থাপনকারী ভারতীয় প্রবাসীদের অবস্থার উন্নতি সাধন করবেন। মালয়েশিয়া তৈরিতে ভারতীয়রা বিশাল অবদান রয়েছে। যদি ভারতীয় শ্রমিকরা সেখানে যাওয়া বন্ধ করে দেয় তবে মালয়েশিয়ার সমস্ত উন্নয়নের কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু তার বদলে সেখানকার স্থানীয় সরকারের কাছ থেকে তারা কোন পারিতোষিক পান না। প্রবাসী ভারতীয় দিবস সম্মেলনে মালয়েশিয়া থেকে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় আসেন। তারা সেখানে কীভাবে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সে সম্পর্কে তারা সকলেই তাদের যন্ত্রণা বর্ণনা করেন।

কেউ কেউ তাদের বেদনাদায়ক কাহিনী বলার সময় কাঁদেও। এদের পূর্ব পুরুষদের বেশিরভাগই তামিলনাডর অন্তর্ভুক্ত। প্রায় দেড়শ বছর আগে ব্রিটিশ সরকার তাদের মজুরির জন্য মালয়েশিয়ায় নিয়ে যায়। তারা এখনও ভারতকে গভীর ভালবাসে। আমার তামিল বংশোদ্ভূত সিঙ্গাপুরের এক ব্যবসায়ী বন্ধুর ভাগ্নী কুয়ালালামপুর একটি সংস্থায় চাকরি করতে গিয়েছিলেন। সংস্থার মালিক তার সাথে বলপূর্বক সম্পর্কে লিপ্ত হন। যখন ওই মহিলা গর্ভবতী হয়ে পড়ে তখন তাকে বিয়ে করার জন্য শর্ত চাপান মালিক। সেই শর্তটি হলো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেই সে তাকে তৃতীয় স্ত্রীয়ের মর্যাদা দেবে।

ভারতে ফিরে আসবে জাকির নায়েক

মহিউদ্দিন যদি জাকির নায়েককে ভারতের হাতে প্রত্যার্পন করতে সম্মত হন তবে বলাই যায় যে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নতির নতুন নজির স্পর্শ করবে। জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ধারায় ভারতের বিভিন্ন মামলা চলছে। মালয়েশিয়ার আগের প্রধানমন্ত্রী তাকে রক্ষা করে যাচ্ছিলেন। নায়েক কিছুদিন আগেও পরামর্শ দিয়েছিলেন যে পাকিস্তান সরকার যেন ইসলামাবাদে হিন্দু মন্দির নির্মাণের অনুমতি না দেয়। নায়েক ভারতের শান্তিপূর্ণ সামাজিক পরিবেশকেও বিষাক্ত করে চলেছে। তিনি বিষাক্ত ব্যক্তি। হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করাটা তার রক্তে রয়েছ। জাকির নায়েক গত চার বছর ধরে ভারত থেকে পালিয়ে মালয়েশিয়ায় বসতি স্থাপন করেছেন। মহাতির মহম্মদ তাকে আশ্রয় দিয়েছিলেন।

এখন মহাতির ক্ষমতার বাইরে। কথিত প্রচারক জাকির নায়েক পুত্রজায়া শহরে থাকেন। প্রত্যেকদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং হিন্দু সমাজের বিরুদ্ধে নেতিবাচক ব্যঙ্গাত্মক প্রচার করে চলেছেন। নায়েক মালয়েশিয়ার হিন্দুদের সম্পর্কেও অনেক অশ্লীল কথা বলেছেন। তিনি একবার বলেছিলেন যে মালয়েশিয়ার হিন্দুরা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ মহাতির চেয়ে মোদীরই বেশি অনুগত। এখন আপনি বুঝতে পারবেন কতটা নিখরচায় ভালবাসার এক প্রকার। নায়েক কোথাও অনুভব করছেন যে এখন তিনি খুব বেশি দিন মালয়েশিয়ায় থাকতে পারবেন না। কারণ, তাঁর রক্ষাকর্তা মহাতির মহম্মদ ক্ষমতার বাইরে রয়েছেন। আশা করা যায় আবারও ভারত এবং মালয়েশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক আগের মত স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।

Related Articles

Back to top button
Close