fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মুখ্যমন্ত্রীর পথশ্রী প্রকল্প কি আদৌ তৃণমূলের একুশের পথ প্রশস্ত করবে? প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলে

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পথশ্রী’ প্রকল্প আদৌ কি তৃণমূলের একুশের পথ প্রশস্ত করবে? তা নিয়ে ইতিমধ্যে জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তাদের মতে মুখ্যমন্ত্রীর পথশ্রী প্রকল্প ঘোষনা হতেই যেভাবে বিরোধিতার ঢেউ আছড়ে পরেছে সোশাল মিডিয়াতে। তাতে বোঝা গিয়েছে তৃণমূলের অনুউন্নয়নে মানুষের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ। তাই স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে পথশ্রী প্রকল্প আদৌ প্রশস্ত করতে পড়বে কিনা একুশে তৃণমূলের পথ।

অন্যদিকে বিজেপি রাজ্য নেত্রীত্ব এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে বাংলার মানুষের মন জয় করতে চায়। তাদের কথায় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী যত ‘শ্রী’ ব্যবহার করুন না কেন, কটমাণি ও দুর্নীতি সাধারণ মানুষের চোখে পরে গেছে। মানুষ এখন আগের তুলনায় অনেক সচেতন। তাই ‘শ্রী’ যুক্ত প্রকল্প ঘোষণা করে মানুষের মন জয় করা যাবে না। তার জন্য মাঠে ময়দানে নেমে কাজ করতে হবে। যা দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি করছেন। আর এরাজ্যে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিজেপি করছে। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ সফর কালে রাস্তা নির্মাণ নিয়ে প্রকাশ্য সমাবেশে পথশ্রী প্রকল্পের ঘোষনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গত আট বছরে রাজ্যে যে পরিমাণ রাস্তা নির্মাণ হয়েছে , তা গত একশাে বছরেও হয়নি।’ একই সঙ্গে তিনি ১২০০০ কিলোমিটার রাস্তা তৈরির ও ঘোষনা করেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে ঘিরে এবার সোশাল মিডিয়ায় একে একে সরব হয়েছে নেটিজেনরা। গত দু দিনে প্রায় শতাধিক মন্তব্য আছড়ে পড়েছে সোশাল মিডিয়াতে।

পথশ্রী ঘোষণার পর জয়ন্ত মন্ডল লেখেন, ‘১০০ বছরের কথা জানি না, তবে গত ১৫ বছরে হরিহরপাড়ার রাস্তার এত খারাপ অবস্থা দেখিনি।’
কওসর আহমেদ লেখেন, ‘শুধু হরিহরপাড়া না, পুরাে মুর্শিদাবাদের রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। এখনকার রাস্তার যে অবস্থা, তাকে রাস্তা না বলাই ভালাে। আগে যে রাস্তা গুলাে আছে ঠিক করুন। আর এখন কন্ট্রাক্টর এমন ভাবে রাস্তা করছে যে পুরাে রাস্তা কমপ্লিট না হতেই আবার রাস্তা পুকুরে পরিণত হয়ে যাচ্ছে।  শান্তনু রায় লেখেন, ‘গত আট বছরে এই সরকার যত মিথ্যা কথা বলেছে তা গত একশ বছরে ভারতের কোনাে সরকার বলেনি।’ দীপেন অধিকারী লেখেন, ‘দিদিকে মিথ্যাশ্রী পুরস্কার দেওয়া দরকার।’

প্রদীপ কুমার বেরা লেখেন, ‘মিথ্যা তথ্য। মানুষকে বুঝিয়ে, প্রয়ােজনে লড়াই করে রাস্তা বামেরা করেছে। রাস্তার সংস্কার এই আমলে হয়েছে। কাটমানির জন্য, জমি অধিগ্রহণ নীতির জন্য, অনেক রাস্তা করা যায়নি, যথেষ্ট কেন্দ্রীয় বরাদ্দ সত্বেও। স্বর্নেন্দু বেরা লেখেন, ‘আকাশ পথে না গিয়ে সড়ক পথে এদিক ওদিক গেলেই দিদি, যা বলছেন তা ঠিক কি বুঝতে পারতেন। তিনি যাওয়ার আগে খবর হয়ে যায়, হঠাৎই সব কিছুর বদল হয়, দিদি খবরে দেখেন এক আর সরজমিনে। দেখেন আরেক, ভেলকিটা দিদি বুঝেও বুঝলেন না। চোরেদের কাজ দিলেন, কাজ না করলে বাহবা দিলেন, দোষীরা সাজা পেল না। আগামী দিনে ফিরে এসে গদীতে বসা ভুলেও ভাববেন না।

স্বপন ব্যানার্জী লেখেন, ‘সকলের আআত্মম্ভরিতা, মিথ্যাচারীতার একটা সীমারেখা থাকে, যদি না সে ইতর শ্রেণীর হয়। এই মহিলাকে যে ঠিক কোন শ্রেণীতে ফেলা যায় সেটাই ভাবার বিষয়। প্রথমত জাতীয় সড়কপথগুলির নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় ও দায়ভার কেন্দ্রীয় সরকার বহন করে যদিও বা সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলি, যে রাজ্যের মধ্য দিয়ে এই পথ গিয়েছে সেই রাজ্য তাদের ঠিকাদারদের দিয়ে এই কাজগুলি করে থাকে। দ্বিতীয়ত প্রধানমন্ত্রী গ্রামীন সড়ক যােজনায় প্রত্যেক রাজ্যের গ্রামগুলিকে প্রধান সড়কের সাথে যুক্ত করার ব্যয়ভার কেন্দ্রীয় সরকার বহন করে। তাহলে মিথ্যাবাদী মহিলার লম্বাচওড়া ভাষণ দেওয়ার যৌক্তিকতা কোথায় ? তবে হ্যাঁ , মহিলা এটা দাবী করতে পারে যে তার সরকার কি ভাবে সড়ক নির্মাণে লােহার রডের বদলে বাঁশের কঞ্চির ব্যবহার করতে পারে, কীভাবে রাস্তার মাঝে মাঝে ডােবা তৈরি করে রাস্তার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে হয়। কাটমানি কি ভাবে খেতে হয়।

অঞ্জন চক্রবর্তী লেখেন, ‘এই নাকি ৯৯ শতাংশ কাজ হয়ে গেছে, আবার নতুন করে রাস্তা কিসের ? পানীয় জল, সবার জন্য বাড়ি, যাতায়াতের ভালাে রাস্তা, শিক্ষা ও চিকিৎসার পরিকাঠামাে তাে আমাদের অধিকার । এছাড়া শিল্প – বাণিজ্যের উন্নতি এবং সর্বোপরি কর্মসংস্থান বাড়ানাের দিকে নজর দিন তাহলে বুব ১০০ % উন্নয়ন হয়েছে।’ রুদ্র প্রতাপ লেখেন, ‘হেলিকপ্টার না ব্যবহার করে ভােটের প্রচারে এবার রাস্তায় যান বুঝতে পারবেন।’

Related Articles

Back to top button
Close