fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

লকডাউন কি চলবে? দেখে নিন কোন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা মোদিকে বৈঠকে কী বললেন

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: তৃতীয় দফার লকডাউনের মেয়াদ শেষ হওয়ার মুখে। তার আগে সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে পঞ্চমবার বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী । সেখানে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের বক্তব্য শোনেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মূলত আলোচনা হওয়ার কথা ছিল লকডাউন তোলার আগে এখন কোন কোন রাজ্যে কী রকম কী পরিস্থিতি রয়েছে সেটা খতিয়ে দেখা। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, কনটেনমেন্ট জোন বাদ দিয়ে রাজধানীর অন্যত্র স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু করা হোক।

সেই বৈঠকেই প্রধানমন্ত্রীকে কার্যত একাধিক প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রের একাধিক সিদ্ধান্ত, ভূমিকা, পদক্ষেপ নিয়ে তিনি যে রীতিমতো অখুশি সেটা কার্যত বুঝিয়েই দেন। সেই বৈঠকেই কার্যত নিজের ক্ষোভ উগরে  দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘সরকার যখন স্থল সীমানা থেকে শুরু করে ট্রেন, প্লেন সবই চালানো শুরু করে দিয়েছে, তখন ১৭ মে-র পর আর লকডাউন চালিয়ে কী লাভ! কেন্দ্রের সরকার একটার পর একটা পরিষেবা শুরু করে দিচ্ছে, আর রাজ্যগুলিকে বলা হচ্ছে এ জন্য যে সংকট তৈরি হচ্ছে তা মোকাবিলা করতে। আপনি এই বিষয়টায় নজর দিন। এটা স্ববিরোধিতা হচ্ছে। বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। তাতে সংক্রমণ রুখতে আমাদের অসুবিধা হচ্ছে। আমার মতে, কী খোলা থাকবে আর কী খোলা থাকবে না সে ব্যাপারটা ঠিক করার দায়িত্ব রাজ্যের হাতে ছেড়ে দিন। রাজ্য বাস্তব পরিস্থিতি ও নিজেদের ক্ষমতা বুঝে ঠিক করুক কী ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’‘কেন্দ্র যেভাবে নির্দেশিকা দিয়েছে তা আমরা মেনে চলেছি। এখন প্রত্যাশিত ফলাফল না মেলায় রাজ্যের ঘাড়ে দোষ চাপানো চলবে না। বাংলার যেসব মানুষ আছে বিভিন্ন রাজ্যে। তাঁদের ফেরাতে প্রস্তুত রয়েছি আমরা। তাঁদের স্বাগত জানাচ্ছে বাংলা। আমরা মানুষের যাওয়া-আসার জন্য এন্ট্রি-এক্সিট পাশ চালু করেছি। ১ লাখের বেশি মানুষ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে পৌঁছেছে। আরও কয়েক লক্ষ মানুষ আসবে। তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, খাবারের ব্যবস্থা, বাড়িতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা সব করছে রাজ্য। বলতে পারেন বিরাট একটা কর্মযজ্ঞ চলছে। এর জন্য সুনির্দিষ্ট তথ্যের আদান-প্রদান আর পরিকল্পনা দরকার। কেন্দ্রের উচিত এইসব শ্রমিক যারা অন্য রাজ্য থেকে আসছে তাঁদের কথা ভেবে ১০০ শতাংশ টেস্টিং এর ব্যবস্থা করা। শুধুমাত্র টেম্পারেচার মাপা কাজের কাজ নয়। সঠিক পরীক্ষা না হলে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থেকেই যায়।’

তিনি বলেন, ‘কোন রাজ্যে কত বেশি সংক্রমণ তা নিয়ে কারও বিরুদ্ধে আঙুল তোলা উচিত নয়, এটা কোনও রাজ্যের দোষ নয়, কোন মানুষেরও দোষ নয়। কেন্দ্র-রাজ্য সবাই এখন সংকটে। কিন্তু রাজনৈতিক সুবিধা লাভের জন্য আমাদের রাজ্যকে যদি টার্গেট করা হয় তাহলে সেটা ঠিক হচ্ছে না। কেন্দ্র পরামর্শ না দিয়ে উল্টো একটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে দিল আর তাঁদের জন্য উচ্চপদস্থ অফিসাররা ব্যস্ত হয়ে পড়লেন, এটা ঠিক নয়।’

আরও পড়ুন: মহারাষ্ট্র বিধান পরিষদের নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে

অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জগনমোহন রেড্ডি এদিন কিছু বিধিনিষেধ চালু রেখে লকডাউন তুলে নেওয়ার কথা বলেন। তাঁর কথায়, যতদিন না ভ্যাকসিন আসছে ততদিন করোনাভাইরাসের সঙ্গে থাকার জন্য মানুষকে তৈরি করতে হবে। তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও চেয়েছেন দেশজুড়ে যে ভাবে প্যাসেঞ্জার ট্রেন চালু করা হচ্ছে সেটা বন্ধ করা হোক। তিনি বলেন, এর ফলে করোনাভাইরাস সংক্রমণ আটকাতে এতদিন ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা অর্থহীন হয়ে যাবে।

রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট বলেন, কেন্দ্রের উচিত এক রাজ্য থেকে আর এক রাজ্যের পণ্য পরিবহণ ঠিক ভাবে চালানো। গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি বলেন, ৩ মের পরে শুধুমাত্র কনটেনমেন্ট জোনে লকডাউন রাখা উচিত। নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করে অর্থনৈতিক কাজকর্ম এবারে শুরু করে দেওয়া উচিত। গরমের ছুটির পরে খুলুক স্কুল, কলেজ।

মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে বলেন, মুম্বইতে লোকাল ট্রেন চলাচল শুরু করা হোক। যাতে জরুরি ক্ষেত্রের কর্মীরা যাতায়াত করতে পারেন। তিনি আরও বলেন, সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছতে পারে মে মাসে, সেটা জুন, জুলাইও হতে পারে তাই ফের লকডাউন বাড়ানো হলে সেটা খুব কঠোর ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। রাজ্য পুলিশের উপরে চাপ বাড়তে থাকায় এবং পুলিশ কর্মীদের মধ্যে সংক্রমণ বাড়ায় প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হোক।

ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল বলেন, কোন এলাকা রেড, অরেঞ্জ বা গ্রিন তা ঠিক করার দায়িত্ব রাজ্যকে দেওয়া হোক। অর্থনৈতিক কাজকর্ম কী ভাবে শুরু হবে সেটাও রাজ্যই ঠিক করুক। একই সঙ্গে কেন্দ্র ১০০ দিনের কাজের পরিধি বাড়িয়ে ২০০ দিনের করুক।

পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং বলেন, লকডাউন বাড়ানো হোক তবে জীবন ও জীবীকা যাতে ঠিক মতো চলে তার জন্য রাজ্যেগুলিকে আর্থিক ভাবে শক্তিশালী করী হোক। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী পালানিস্বামী বলেন, ৩১ মে পর্যন্ত যেন বিমান চলাচল শুরু করা না হয়। একই সঙ্গে এই মাসে ট্রেন চলাচলও বন্ধ রাখা হোক। তিনি রাজ্যের জন্য ২ হাজার কোটি টাকার অনুদানও চেয়েছেন। একই সঙ্গে জিএসটি বাবদ রাজ্যের প্রাপ্য মিটিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Related Articles

Back to top button
Close