fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার বাঁশের ব্রিজ দিয়ে, হেলদোল নেই প্রশাসনের 

অভিষেক আচার্য, কল্যাণী: না সামনে আপাতত কোনো নির্বাচন নেই। যে প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দেবেন নেতারা। কারণ কঠিন অসুখে ভুগছে বিশ্ব। পুরসভা ভোট হচ্ছে না। পঞ্চায়েত ভোট ঢের দেরি। আপাতত বন্ধ উন্নয়নের যাবতীয় কাজ। সেই কারণে ভাঙা,রুগ্ন কাঠের ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন তিনটি গ্রামের বাসিন্দারা পারাপার করছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড়সড় দুর্ঘটনা। তবু হেলদোল নেই প্রশাসনের।

কল্যাণী শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে রয়েছে তিনটি অবাঙালি গ্রাম। চড় যদু বাটি, চড় জাজিরা ও চড় যাত্রা সিদ্ধি। এই তিনটি গ্রামের জনসংখ্যা প্রায় ১২হাজার। কাঁচড়াপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে গঙ্গা লাগোয়া রয়েছে গ্রামগুলি। গ্রামের মাঝখানে আছে সতীমাতা নামে অতি প্রাচীন একটি খাল। স্থানীয় বাসিন্দা গণেশ মাহাতো বলেন, জল কম থাকলে হেঁটে খাল পারাপার করতেন বাসিন্দারা। ২০০৯ সালে মানুষের সুবিধার্থে একটি বাঁশের ব্রিজ তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি বেশিদিন টেকেনি। ২০১৪ সালে বাঁশের বদলে কাঠের ব্রিজ তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু কয়েক বছর যেতে না যেতেই বেহাল হয়ে পড়ে কাঠের ব্রিজটি। বিষয়টি জানানো হয়েছে পঞ্চায়েত প্রধানকে। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।

পুরোদস্তুর কাঠের ব্রিজ। লম্বা প্রায় ১৭০ফুট। চওড়া প্রায় ১০ফুট। ব্রিজটির মাঝখান ভেঙে প্রায় দেড় হাত ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। ব্রিজের ধারের কাঠামো ভেঙে নিচে পড়ে রয়েছে। ভাঙা জায়গায় বাঁশ দিয়ে বেঁধে রেখেছেন গ্রামবাসীরা। এ বিষয়ে গোপাল মাহাতো বলেন, এই ব্রিজের ওপর দিয়ে টোটো, সাইকেল, বাইক যাতায়াত করে। ভারী যানবাহন যাতায়াত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নড়বড়ে হয়ে গিয়েছে ব্রিজটি। যথেষ্ট সাবধানতার সঙ্গে যাতায়াত করতে হয়। প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা। কখনো উল্টে যাচ্ছে টোটো আবার কখনো বাইক উল্টে হাত পা ভাঙছে বাসিন্দাদের।

আরও পড়ুন: নদিয়ায় আমফানে মৃত পরিবারদের হাতে আড়াই লাখ টাকার চেক তুলে দিলেন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়

এই ব্রিজ দিয়ে টোটো নিয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনায় পড়েছিলেন টোটো চালক শিবা মাহাতো। তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন আগেকার ঘটনা। টোটো তে যাত্রী নিয়ে এই ব্রিজ দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় ব্রিজের ভাঙা অংশে চাকা আটকে গিয়ে উল্টে যায় টোটোটি। যাত্রীরা কমবেশি আহত হয়েছেন। ভেঙে গিয়েছে তাঁর ডান পা। এখনো ব্যান্ডেজ বাঁধা পায়ে।

এই বিষয়ে কল্যাণী পুরসভার পৌরপারিষদ সদস্য (জলবিভাগ) বলরাম মাঝি বলেন, প্রাক্তন তৃণমূলের সাংসদ গোবিন্দ চন্দ্র নস্কর এই ব্রিজের জন্য সাংসদ তহবিল থেকে ২০লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু ব্রিজটি তৈরি করতে খরচ হত প্রায় ৯০লাখ টাকা। ফলে কোনো কাজ না হয়েই সেই ২০ লাখ টাকা ফেরত চলে যায়। অবিলম্বে ব্রিজটি পাকা করা হোক। দাবি তোলেন বলরামবাবু।

অন্যদিকে কাঁচড়াপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান পঙ্কজ সিং বলেন, পাকা ব্রিজ করতে গেলে যে টাকা খরচ হবে সেই টাকা পঞ্চায়েতের নেই। এছাড়া ওই কাঠের ব্রিজ দিয়ে ভারী যানবাহন চালান গ্রামবাসীরাই। ফলে ব্রিজটি বারংবার ভেঙে যায়। তবে এই মুহূর্তে ব্রিজটি পাকা করা সম্ভব নয়। বিষয়টি জেলায় পাঠানো হয়েছে। পরে ব্রিজটি পাকা করা হবে বলে জানিয়েছেন পঞ্চায়েত প্রধান। সামনেই বর্ষাকাল। সেই সময় ব্রিজটি আরো বেহাল হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা বাসিন্দাদের। অবিলম্বে পাকা ব্রিজ তৈরি না হলে বড়সড় বিপদ ঘটতে পারে বলে দাবি স্থানীয়দের। কবে হবে পাকা ব্রিজ তার সদুত্তর অবশ্য পাওয়া যায়নি।

Related Articles

Back to top button
Close