fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পুজোর উদ্বোধনকে সামনে রেখে মালদায় নিজেদের ঘুঁটি সাজাতে ময়দানে নেমে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস

মিল্টন পাল, মালদা: কংগ্রেস গড়ে পুজো উদ্বোধন করে বিধানসভা ভোটে জয়লাভ করতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর সেই কারণেই ২০১১ সাল থেকে যেসব জেলায় জয়লাভ করতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস সেইসব জেলাগুলিতে আগে ভাগে দুর্গাপুজো মণ্ডপ উদ্বোধন করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মনে করছে জেলার রাজনৈতিক মহল। যদিও বিজেপির দাবি ২০১১ নয় ১৬ সালেও যে সমস্ত জায়গায় তৃণমূলকে বঞ্চিত করেছে সেই সমস্ত এলাকায় মুখ্যমন্ত্রীর ভন্ডামি করে পুজো উদ্বোধন কোনও কাজে আসবে না।
বরাবরই মালদা জেলা কংগ্রেসের গড় বলেই পরিচিত। আর এই কংগ্রেস গড়ে একছত্র আধিপত্য করে এসেছে কংগ্রেস দল গণি পরিবার। যার ফলে মালদা জেলার ১০টি বিধানসভা কেন্দ্রে একাধিকবার জয়লাভ করেছেন জেলা কংগ্রেস। দুটি আসন পায় আরএসপি ও সিপিএম। ২০১১ সালে বিধানসভা ভোটে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসলেও মালদা জেলায় ১০টি বিধানসভা কেন্দ্র দখল করে কংগ্রেস।

পুনরায় ২০১৬ সালেও মালদা জেলায় ১২টি আসনের মধ্যে ৯টি দখল করে কংগ্রেস। সিপিএম ১টি ও নির্দল পায় একটি। পরবর্তীতে দুই কংগ্রেস বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন ও সমর মুখার্জি, সিপিএমের বিধায়ক দিপালী বিশ্বাস ও নির্দল বিধায়ক নিহার রঞ্জন ঘোষ তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করে। এর ফলে মালদা জেলায় সামান্য শক্তি বৃদ্ধি করে তৃণমূল কংগ্রেস। এরপর থেকেই শুরু হয় তৃণমূল কংগ্রেসের সন্ত্রাস। বিভিন্ন কাজ করে দেওয়ার নাম করে সরকারি ক্ষেত্র থেকে বিভিন্ন জায়গায় কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। এই কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ উঠে একবারে তৃণমূলের নিচু স্তর থেকে উচ্চস্তরের বেশকিছু নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। এই কাটমানি আটকাতে সাহায্য নেওয়া হয় পিকের। পিকে নির্দেশেই সারা রাজ্যের সাথে মালদা জেলাতে বিভিন্ন জায়গায় নেতা-নেত্রীদের সম্বন্ধে খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়। তৃণমূল কংগ্রেস নতুন করে সাজাতে শুরু করে জেলা টিম। পিছিয়ে নেই অন্যান্য দলগুলোর ২০২১ সালে রয়েছে বিধানসভা ভোট তার আগেই বিজেপি কংগ্রেস ও সিপিএম ময়দানে নেমেছে।

বর্তমানে মালদা জেলায় কংগ্রেসের প্রভাব কিছুটা কমলেও সিপিএম একেবারে কোণঠাসা। বিজেপি তাদের দলীয় সংগঠন নিয়ে একদম নিচের স্তর থেকে বহুদিন আগে থেকেই তাদের প্রচার শুরু করেছে।
মাঝে মাঝেই রাজ্য নেতৃত্বদের সঙ্গে বসে সেই সমস্ত কাজের খতিয়ান দেখছে। এরই মধ্যে সম্প্রতি করোনা অবহে সমস্ত কিছুর পরিবর্তন ঘটেছে। ফলে মালদা জেলা থেকে বঞ্চিত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর যার ফলে রাজ্যের যে সমস্ত জায়গায় বিধানসভা ভোটে একটি আসন পায়নি তৃণমূল কংগ্রেস সেই সমস্ত জেলায় আগে ভাগেই কিছু পুজো মণ্ডপ উদ্বোধন করে লোককে চমক দিতে চাইছে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কো-অর্ডিনেটর দুলাল সরকার বলেন, মালদা জেলার মানুষ এবছর তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে রয়েছে। ইতিমধ্যেই আমরা বুথ স্তরে সম্মেলন শুরু করেছি। সেখানে বিভিন্ন ব্লকের নেতা নেত্রীদের বক্তব্য শোনা হচ্ছে এবং সেই মতো কাজও শুরু হয়েছে। আগামী বিধানসভা ভোটে তার প্রমাণ পাওয়া যাবে। আর বিজেপি বলে মালদা জেলায় কিছু নেই। বিজেপি মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করেছে। তারা কখনই মানুষের পাশে থাকে না মানুষের জন্য লড়াই করে না। শুধুমাত্র ঘরে বসেই বড় বড় কথা বলেন।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা মানুষকে দিয়েছে। সময় আসলে মানুষই এর জবাব দেবে।
জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কালিসাধন রায় বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য তৃণমূল কংগ্রেস ও তাদের সুপ্রিমো এই পুজোমণ্ডপ গুলি উদ্বোধন করছেন। এই সরকার চুরি লুঠের সরকার। মানুষ সব বুঝতে পারছে। সামাজিক উৎসব নিয়ে রাজনীতি এই জেলার মানুষ কখনও সর্মথন করেনি করবেও না।

আরও পড়ুন: মণীশ শুক্লা খুনের ঘটনায় সিআইডি তদন্তের উপরেই ভরসা রাখল হাইকোর্ট

জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি অজয় গাঙ্গুলী বলেন, ২০১১ সালে মালদা জেলায় যে সমস্ত বিধানসভা ক্ষেত্রে আসন পাইনি তৃণমূল কংগ্রেস। ২০০৬ সালেও মালদা জেলা থেকে বঞ্চিত করেছে তৃণমূল কংগ্রেসকে। সেই সমস্ত জায়গাতে মুখ্যমন্ত্রী ভন্ডামি করে দুর্গাপুজোর উদ্বোধন কোনও কাজে আসবে না। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ঠিক করে নিয়েছে, মালদার মানুষ ঠিক করে নিয়েছে তারা কি করবে। সেই জন্য হাজার দেবতাদের নিয়ে পুজো উদ্বোধন করে রাজনীতি করে তৃণমূল কংগ্রেস মালদাতে একটিও আসনও পাবে না পশ্চিমবঙ্গেও পাবে না। তাই বিজেপি বলছে করোনা ও দুর্গাপুজোর পরে তৃণমূল কংগ্রেস উঠে যাবে।

Related Articles

Back to top button
Close