fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রীর টোকেন বিলি নিয়ে দুর্ণীতির অভিযোগ, উত্তাল ভাতার কিষাণ মাণ্ডি

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: কিষাণ মাণ্ডিতে সরকারি সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রীর টোকেন বিলিতে দুর্ণীতি হচ্ছে । এমন অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের কিষাণ মাণ্ডিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন চাষিরা । ধান বিক্রীর টোকেন কিভাবে ও কাদের বিলি করা হচ্ছে তার তদন্তের দাবি করেছেন চাষিরা ।

রাজ্যের খাদ্য দপ্তর প্রতিবছরই চাষিদের কাছ থেকে সরকারি সহায়ক মূল্যে ধান কিনে থাকে ।ধান বিক্রীর জন্য চাষিদের টোকেন দেওয়া হয় কিষাণ মাণ্ডি থেকে ।পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের চাষিদের টোকেন সংগ্রহ করতে হচ্ছে ভাতার কিষাণ মাণ্ডি থেকে ।বিগত কয়েকদিন যাবৎ কিষাণমাণ্ডি থেকে ৩০ জনকে টোকেন দেওয়া হচ্ছে ।

কৃষকদের অভিযোগ, তাঁরা যত সকালেই কিষাণ মাণ্ডিতে যান না কেন তখনই বলে দেওয়া হচ্ছে ৩০ জন চাষির নাম নথিভুক্ত হয়ে গেছে ।বৃহস্পতিবারও লাইনে দাঁড়ানো শতাধীক চাষিকে একই কথা বলা হলে চাষিরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। চাষিদের বিক্ষোভ ঘিরে উত্তাল হয় ভাতার কিষাণ মাণ্ডি চত্ত্বর ।চাষিরা অভিযোগ তোলেন ফড়েদের সুবিধা পাইয়ে দিতে প্রকৃত কৃষকদের বঞ্চিত করা হচ্ছে ।

গোপনে কৃষক পরিচয় দিয়ে ফড়েদের নাম নথিভুক্ত করা হচ্ছে । টোকেন বিলিতে যুক্ত ব্যক্তিরা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বলেও অভিযোগ খাড়া প্রতিবাদে সরব হন চাষিরা ।পরে খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকদের আশ্বাসে এদিনের মতো বিক্ষোভ মেটে । তবে টোকেন বিলি নিয়ে খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকের কাছে তদন্তের দাবি রেখেছেন চাষিরা ।

ভাতারের কৃষক স্বরূপ সরকার বলেন , টোকেন পাবার জন্য তিনি তিনদিন ধরে কিষাণ মাণ্ডিতে আসছেন ।কিন্তু প্রতিদিনই তাঁকে খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে। স্বরুপ বাবুর অভিযোগ টোকেন বিলিতে নিশ্চই জালিয়াতি হচ্ছে । তার কারণ হিসাবে তিনি বলেন, একেবারে ভোরে তাঁরা চাষিরা নাম নথিভুক্ত করতে আসলেও বলা হচ্ছে নাম নথিভুক্তের কাজ পূরণ হয়ে গেছে । অথচ ওই সময়ে কাউন্টারে মাত্র দু থেকে তিনজন চাষি থাকছেন।

সেই কারণেই তাঁরা চাষিরা চাইছেন সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রীর টোকেন বিলির বিষয়ে সরকার তদন্ত করুক । তাহলেই ঘোটালা প্রকাশ্যে আসবে । নয়তো ফড়েরাই টোকেন পাবে । আর টোকেন প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হবে প্রকৃত চাষিরা ।

যদিও ভাতার ব্লক কৃষি আধিকারিক মুকুল রায় চাষিদের আনা অভিযোগ মানতে চান নি । তিনি দাবি করেন , “প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন চাষিকে সরকারি সহায়ক মূল্য ধান বিক্রির জন্য টোকেন দেওয়া হচ্ছে। এলাকার প্রচুর কৃষক টোকেনের জন্য আবেদন করছেন। টোকেন বিলিতে কোন অনিয়ম হয় নি । বরং বেশি কৃষকে কিভাবে টোকেন দেওয়া যায় তা নিয়ে ভাবনা চিন্তা চলছে ।”

Related Articles

Back to top button
Close