fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

শাহর সফরের মধ্যেই জঙ্গলমহল থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রত্যাহারের নির্দেশ

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  দু’দিনের বঙ্গ সফরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ । দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের মাঝেই জঙ্গলমহল থেকে সিআরপিএফ বাহিনী প্রত্যাহার করা হল। রাজ্যের জঙ্গলমহলের দুই জেলা ঝাড়গ্রাম ও পুরুলিয়ায় থাকা মাওবাদী দমনে মোতায়েন সিআরপিএফের ৫০ ও ১৬৫ নম্বর ব্যাটেলিয়ানের মোট ১৪ কোম্পানি বাহিনী চলতি মাসেই ক্যাম্প গুটিয়ে চলে যাচ্ছে। রাজ্যের মুখ্যসচিব ও রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশককে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যখন জঙ্গলমহল লাগোয়া ঝাড়খণ্ডে মাও কার্যকলাপ ক্রমশ বাড়ছে তখন কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রত্যাহারের এহেন সিদ্ধান্ত কার্যত নজিরবিহীন।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই নির্দেশিকায় উদ্বেগ বাড়ল রাজ্যের। ঝাড়গ্রামের কাঁকরাঝো়ড়, বুড়িঝোড়, পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের হিলটপ, মাঠা এবং পাথরবাঁধ এলাকা স্পর্শকাতর জায়গা হিসেবে পরিচিত। এই এলাকাগুলোয় সব মিলিয়ে ১৪ কোম্পানি বাহিনী রয়েছে। মূলত পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রামে জঙ্গলমহলের বিভিন্ন শিবিরে মাওবাদীদের মোকাবিলায় মোতায়েন রয়েছে তারা। এদের মধ্যে ৮ কোম্পানি বাহিনীকে ইতিমধ্যেই বিহারে বিধানসভা ভোটের জন্য পাঠানো হয়েছে। বাকি ৬ কোম্পানি বাহিনীকে ছত্তীসগঢ় এবং মধ্যপ্রদেশে পাঠানো হবে বলে ঠিক হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার এই নির্দেশিকা জারি করেছে সিআরপিএফ।

অথচ এই দুই ব্যাটেলিয়নকে পাঠানো হচ্ছে সেই মাও উপদ্রুত রাজ্য ছত্তিশগড়েই। তাই শাসকদল তৃণমূল প্রশ্ন তুলেছে বিধানসভা ভোটের আগে ঝাড়খণ্ড থেকে মাওবাদীরা যখন এই রাজ্যের সীমানা ব্যবহার করে কার্যকলাপ চালানোর চেষ্টা করছে তখন এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাই রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী তথা পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান শান্তিরাম মাহাতো বলেন, “এই সিদ্ধান্তের পিছনে রাজনীতি রয়েছে। জঙ্গলমহলের দুই জেলা থেকে বিধানসভা ভোটের আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে শান্ত জঙ্গলমহলকে অশান্ত করে তোলার চেষ্টা চলছে।” সিআরপিএফের (CRPF) ওয়েস্ট বেঙ্গল সার্কেলের আইজি প্রদীপ কুমার সিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁর কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: পন্ডিত অজয় চক্রবর্তীর বাড়িতে অমিত শাহ

এই কয়েক মাসে মাও দমনে মোতায়েন এই সিআরপিএফও বনমহলের এই পাহাড়ি এলাকায় সাধারণ মানুষের ‘বন্ধু’ হয়ে যায়। সিআরপিএফের ওই নির্দেশিকাতে বলা হয়েছে, চলতি মাসের ১০ নভেম্বরের মধ্যে ছত্তিশগড়ের রায়পুর ও মধ্যপ্রদেশের ভোপালে ওই ব্যাটালিয়নের আধিকারিকদের সেখানে নতুন পরিকাঠামো গড়ার মাধ্যমে ক্যাম্পের কাজে তদারকি করতে। সেই সঙ্গে এই ব্যাটেলিয়নের সংশ্লিষ্ট রাজ্যে যাওয়ার জন্য কোভিড পরিস্থিতিতে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে রেলকে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিককালে বাংলায় সেভাবে বড় ধরণের মাও নাশকতা না হলেও এবছর স্বাধীনতা দিবসে বেলপাহাড়ির ভুলাভেদা অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় মাওবাদীদের নামাঙ্কিত কিছু পোস্টার পাওয়ার পরই নতুন করে মাও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close