fbpx
কলকাতাহেডলাইন

শুভেন্দু না থাকলে মমতা আজ মুখ্যমন্ত্রী হতে পারতেন না: অধীর চৌধুরী

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  একুশের নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে বাংলার রাজনীতির উঠোন ক্রমশই তেতে উঠছে। তারই মধ্যে রবিবাসরীয় সকালে পরিবেশ আরও যেন জমিয়ে দিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। বুধবার অমিত শাহ কলকাতায় আসার আগে থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনায় রয়েছে পরিবহণ ও সেচ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নাম। অমিত শাহর সফরকাল সেই নাম বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে। অধীর চৌধুরির মতে, বাংলার দিদি আজ যে জায়গায় পৌঁছেছেন তার পিছনে সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের বড়ো ভূমিকা ছিল। সেই নন্দীগ্রামে বড় ভূমিকা পালন করেছে অধিকারী পরিবার। তখন কিন্তু ভাইপোরা ছিল না। যারা তাঁকে বড়ো করেছেন, এক এক করে তাঁদেরকে তিনি ছেঁটেছেন। এখন সেই তালিকায় শুভেন্দু অধিকারী এসে গেছেন। যদি তিনি বিদ্রোহ করেন তবে তা অস্বাভাবিক কিছু নয়, জানালেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরি।

রবিবার সকালে শুভেন্দু প্রসঙ্গেই এক প্রশ্নের জবাবে অধীর চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুনুন একটা কথা বলি। অধিকারীরা না থাকলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ মুখ্যমন্ত্রী হতে পারতেন না।’ তাঁর কথায়, ‘শুভেন্দু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নন্দীগ্রামের আন্দোলন করেছিলেন বলেই মমতা মুখ্যমন্ত্রী হতে পেরেছেন। সেই আন্দোলনের শুরুতে উনি কোথায় ছিলেন। তখন কোথায় ছিল ভাইপো-ভাইঝি।’ মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে গত কয়েক বছরে শুভেন্দু-অধীর দ্বৈরথ বাংলা দেখেছে।

গত লোকসভা ভোটে অধীর চৌধুরীকে পরাস্ত করতে শুভেন্দু কেমন আদা জল খেয়ে নেমেছিলেন তাও অজানা নয়। সেই শুভেন্দু সম্পর্কে অধীরবাবু কেন এত বড় শংসাপত্র দিয়ে দিলেন তা নিয়ে অবাক হওয়ারই কথা। জবাবে অধীরবাবু বলেন, ‘আমি ফালতু বলার লোক নই। শুভেন্দুর সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধিতা আমার ছিল, থাকবে। সে ব্যাপারে আমার অভিযোগও রয়েছে। কিন্তু সত্যিটাকে তো মানতে হবে। নন্দীগ্রামের আন্দোলন যখন হয়, তখন আমি সেখানে গিয়ে দেখেছি। শুভেন্দু কীভাবে আন্দোলন করছিলেন, সেখানকার গরিব মানুষ, কৃষক তাঁর উপরে কীভাবে ভরসা করছিলেন আমি দেখেছি। তা নিয়ে মিথ্যা বলব কেন!’ রাজ্য রাজনীতিতে এমনিতেই এখন গুঞ্জন যে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল ছাড়তে পারেন। কারণ, তাঁর অনুগামীরা বলছেন, শুভেন্দু তাঁর যোগ্য সম্মান দলে পাননি। তাঁদের এও বক্তব্য, দাদা রাজনীতিতে লড়াই করে উঠে এসেছেন, তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব মানবেন কেন? এই অবস্থায় শুভেন্দুর রাজনৈতিক ভবিষ্যত্‍ নিয়ে একেক জন একেক রকম মূল্যায়ণ করছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যাঁরা ঘিরে থাকেন, দক্ষিণ কলকাতার যে সব মন্ত্রীদের নিয়ে সর্বক্ষণ আদিখ্যেতা চলে, তেমনটা শুভেন্দু কখনওই পাননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওঁকে দিয়ে কাজ করিয়ে নিয়েছেন। কাজ হাসিল হয়ে গেলে দেখেননি। কারও সঙ্গে যদি এমনটা হয়, এবং তাঁর যদি প্রকৃত যোগ্যতা থাকে তা হলে তিনি একদিন না একদিন অন্যভাবে ভাববেনই’।

Related Articles

Back to top button
Close