fbpx
কলকাতাহেডলাইন

চৌবাচ্চায় জল তুলতে গিয়ে তড়িদাহত মহিলা, পরিষেবা ক্ষোভে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে ধু্ন্ধুমার মানিকতলা

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়,কলকাতা:  বিদ্যুতায়িত লাইটপোস্টে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মর্মান্তিক ভাবে মৃত্যু এক মহিলার। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাতে মানিকতলার ১৮ ক্যানাল ইস্ট রোডে সাহেববাগান এলাকার বস্তিতে। মৃতার নাম পুস্পা বর্মা, বয়স ৪৪।
আর এই মৃত্যুর ঘটনায় শুক্রবার শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর কোন্দলে ধুন্ধুমার কাণ্ড বাঁধল মানিকতলায়। ভাঙচুর করা হল স্থানীয় বিদায়ী কাউন্সিলর বা প্রশাসক বোর্ডের ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটরের বাড়ি। বিশাল পুলিশবাহিনী নিয়ে এসে পরিস্থিতি সামাল দেয় মানিকতলা থানার পুলিশ।অভিযোগ স্থানীয় কাউন্সিলরের কাছে  লাইটপোস্ট মেরামতির আর্জি জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি এলাকাবাসির।

পুলিশ সূত্রে খবর, রাত সওয়া ১০টা নাগাদ পুষ্পা বর্মা নামে ওই বাসিন্দা ওই জায়গায় চৌবাচ্চা থেকে লোহার বালতিতে জল তুলছিলেন। কিন্তু কোনওভাবে ওই চৌবাচ্চাটি বিদ্যুতায়ন হয়ে যায়। রাতে পুষ্পা চৌবাচ্চা থেকে লোহার বালতিতে জল তুলতে গেলে সেই সময় তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। খবর পেয়ে পুলি়শ ও সিইএসসি আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে আসে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে সিইএসসি-র পক্ষ থেকে সেখানকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। তার পর মহিলাকে উদ্ধার করে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এদিকে শুক্রবার সকালে ওই মৃত্যুর ঘটনা এলাকায় পৌঁছতেই বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। সাহেব বাগানের বাসিন্দারা ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোঅর্ডিনেটর এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতা অমল চক্রবর্তীকে গাফিলতির জন্য দায়ী করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁরা মানিকতলা মেন রোড অবরোধ করেন। উত্তেজিত জনতার মধ্যে প্রচুর মহিলা গিয়ে হরিশ নিয়োগী রোডে অমল বাবুর বাড়িতে হামলা চালায়। অমল বাবুর বাড়ি লক্ষ্য করে ওই জনতা এলোপাথাড়ি ইট-পাথর ছুড়তে শুরু করেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে কলকাতা পুলিশের বিশাল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। একদিকে লাঠিচার্জ ও তাড়া করে অবরোধকারীদের ক্ষান্ত করে পুলিশ। অন্যদিকে অমলবাবুর বাড়ির সামনেও লাঠিচার্জ করে হামলাকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ঘটনার জেরে প্রকাশ্যে চলে আসে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল।

অমলবাবু অভিযোগ করেন, শুক্রবার তার বাড়িতে গন্ডগোলের নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূলেরই একাংশ। মন্ত্রী সাধন পান্ডের লোকজন বিজেপি-র লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে তার বাড়িতে ভাঙচুর করেছে। সিইএসসি-র দাবি, ওই এলাকায় বেশ কিছু বেআইনি বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। সেখান থেকেই কোনও ভাবে জলের চৌবাচ্চা এবং সংলগ্ন এলাকা তড়িদায়িত হয়েছে। যদিও
ওয়ার্ড কোঅর্ডিনেটর অমলবাবু এই গাফিলতির অভিযোগ মানতে নারাজ। ঘটনার পরেই অমলবাবুর বাড়িতে যান প্রশাসক বোর্ডের বরো কোঅর্ডিনেটর অনিন্দ্য কিশোর রাউত। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,‘‘ যে কোনও মৃত্যু দুঃখজনক, তাই বলে ওয়ার্ড কোঅর্ডিনেটরের বাড়ি ভাঙচুর করা হবে? যারা করেছেন তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।” তবে অমলবাবুর কথামতো সাধন পান্ডে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কি না, সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে চাননি। খোদ স্থানীয় বিধায়ক তথা ক্রেতা সুরক্ষামন্ত্রী সাধন পাণ্ডেও এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি।

Related Articles

Back to top button
Close