fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনা আবহে ‘রেড লাইটে’ থাকা মহিলারা ফিরতে চাইছে গ্রীন লাইটে

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর:- দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। সংক্রমক রুখতে বন্ধ রোজগার। খাদ্যশস্যের সহায়ত জুটলেও সঙ্কটে আর্থ সামাজিক পরিস্থিতি। রুজির টানে ‘রেড লাইটে’ থাকা মহিলারা ফিরতে চাইছে গ্রীন লাইটে। অন্ধকার গলি ছেড়ে বিকল্প পেশায় আসতে চাইছে। ক্ষুদ্র কুটিরশিল্পের মাধ্যমে স্বনির্ভরতার পথে আলো দেখতে চাইছে দুর্গাপুর – আসানসোলের যৌনপল্লীর যৌনকর্মীরা।

প্রসঙ্গত, করোনা সংক্রামক রুখতে দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। গত ২৪ মার্চ থেকে জারি হয়েছে লকডাউন। আর তার জেরে রুজি, রোজগার খুইয়েছে অনেকেই। রোজগার খুইয়ে চরম সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে দিন কাটছে। এরকমই দূরাবস্থায় দিন কাটছে শিল্পাঞ্চলের যৌনপল্লীর যৌনকর্মীদের।

জানা গেছে, প্রায় তিন হাজারের বেশি মহিলা যৌনপেশায় রয়েছে। লকডাউনে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে বলে অভিযোগ। লকডাউনের শুরুতেই বিভিন্ন সংস্থা থেকে খাদ্যশস্য মিললেও চলতি মাস থেকে সংসারে টান ধরতে শুরু করেছে তাঁদের। তাই এবার পেশা বদলে সম্মানজনক অন্য পেশায় যেতে চাইছেন তাঁরা। শিল্পাঞ্চলের নিষিদ্ধপল্লী সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশজুড়ে করোনা সংক্রমণের আতঙ্কে থমকে জনজীবন। মার্চ মাসে লকডাউন শুরু হতেই সমস্ত ব্যবসার মত যৌনব্যবসাও বন্ধ হয়ে পড়ে। রোজগার না থাকায় বিভিন্ন সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় মিলতে থাকে ত্রাণ।

প্রথমদিকে খাদ্যাভাব না হলেও লকডাউনের সময়সীমা বাড়ার পাশাপাশি কমতে থাকে সহযোগিতা। সংসারের খরচ চালানো দুঃসাধ্যকর হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি করোনার দাপট দীর্ঘায়ু জানতে পেরে যৌন পেশায় অনির্দিষ্টকালের মত অনিশ্চিতা দেখা দিয়েছে। যৌনপল্লী সমিতির সদস্যদের অনুমান, অন্যান্য কর্ম সংস্থান ও ব্যবসা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলেও এই পেশা স্বাভাবিক হওয়ায় অনিশ্চয়তা রয়েছে। এবং সরকারি ভাবে অন্যান্য ব্যবসায় আর্থিক সাহায্য মিললেও তাঁদের কোনও আর্থিক সাহায্য মিলবে না। দুর্গাপুরের কাদারোড ও আসানসোলের চাপকা সহ আরও কয়েকটি নিষিদ্ধ পল্লীর যৌনকর্মীরা সরকারি প্রকল্পের আওতায় স্বনির্ভর হওয়ার আশা দেখছেন। ইতিমধ্যে কেন্দ্র সরকার আত্মনির্ভর প্রকল্প ঘোষণা করেছে। তাতে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে ঋণের ব্যবস্থা করেছে।

কাদারোড যৌনপল্লীর দুর্বার শাখা সংগঠন পদাতিক এর সম্পাদক নীলকমল মিশ্র বলেন, লকডাউনে ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ থাকায় দেশ জুড়ে আর্থিক সংঙ্কট দেখা দিয়েছে। অনেক মানুষ কর্মসংস্থান হারাচ্ছে। লকডাউন উঠলেও অন্যান্য ব্যবসা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কিন্তু দেশের করোনা ভাইরাস মুক্ত হওয়ার এখনই কোনও সম্ভাবনা নেই এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যেখানে মানুষ’কে সারাজীবন মাস্ক পরে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। যৌনপেশায় একাধিক মানুষ যৌনকর্মীদের সংস্পর্শে আসবেন। তাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা থাকে। যৌনকর্মীদের জীবনের ভয় আছে। তারাও এই রকম পরিস্থিতিতে এই পেশাকে নিরাপদ মনে করছেন না। এবং সচেতন গ্রাহদের সংখ্যাও কমে যাবে।” তিনি আরও বলেন,” আমাদের এখানে প্রায় আড়াই’শ পরিবার রয়েছে। প্রায় সাড়ে ৭ ‘শ যৌনকর্মী রয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকেই স্টেশনারি জুয়েলারি তৈরি করতে জানেন। আবার অনেকে নকশা করা কাঁথা সেলাই করতে জানেন। এখানকার মহিলারা চাইছেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পের ক্ষুদ্র শিল্পের প্রশিক্ষণ নিতে।

মাস্ক, স্যানিটাইজার তৈরি করা এছাড়াও মাছচাষ, ইমিটেশনের জুয়েলারি তৈরী সহ একাধিক রকমের কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে চাইছেন। লকডাউন চলাকালীন প্রায় ৪৫ দিন ধরে তাঁদের কোনও রোজগার নেই। ওই দিন থেকে তাঁদের পরিবারের জন্য কোনও রকমে একবেলা খাবারের যোগান দিচ্ছি। প্রতিদিন দিনে একবার প্রায় আড়াই হাজার মানুষের জন্য রান্না করে খাবার পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন ২ কুইন্টাল ১০ কেজি চাল, ৪০ কেজি ডাল ও তিন কুইন্টাল সবজি লাগে। ওই একবেলা খেয়ে কোনও রকমে দিন কাটাচ্ছে তাঁরা। কিন্তু এই ভাবে কতদিন চালানো যেতে পারে। তাই আমরা সরকারের কাছে আবেদন রাখছি বিকল্প কোনও পেশার জন্য তাঁদের সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হোক।”

এমএসএমইর দুর্গাপুরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর তারকনাথ কংসবণিক জানান,” আমাদের কাছে সেরকম কোন আবেদন আসেনি। স্বনির্ভরতার জন্য আমাদের কাছে আসলে যাবতীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হবে।”

Related Articles

Back to top button
Close