fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনা ভাইরাসকে রুখতে পুজোয় সামিল হল মহিলারা

নিজস্ব প্রতিনিধি, দিনহাটা: করোনা ভাইরাসকে রুখতে যখন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা দিনরাত এক করে প্রতিষেধক তৈরি করার কাজে ব্যস্ত তখন করোনার হাত থেকে মানুষকে বাঁচাতে করোনা পুজোয় সামিল হল মহিলারা। সোশ্যাল মিডিয়ায় পশ্চিমী রাজ্যগুলির কাছ থেকে জানতে পেরেই করোনা পুজোয় সামিল হল এই মহিলারা। সোমবার দিনহাটা শহরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের মিনি বাস স্ট্যান্ড এলাকায় মহিলারা এই পুজোয় সামিল হন। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় যখন মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে তখন এই মহিলারা কোনরকম মাস্ক ছাড়াই করোনা পুজোয় সামিল হন। এদিন শহরের বিভিন্ন এলাকার বিহারী সম্প্রদায় ও হরিজন সম্প্রদায়ের মহিলারা ধুমধাম করে এই পুজোয় সামিল হলে ব্যাপক আলোড়ন ছড়িয়ে পড়ে। দিনভর উপবাস করে এই পুজোর আয়োজনে সামিল হয় মহিলারা।

জানা গেছে, এ দিন সকাল থেকে নিয়ম নিষ্ঠার মধ্য দিয়ে জমিতে মাটি খুঁড়ে নয় টি লাড্ডু, নয় টি লং, নয় টি ধূপকাঠি ,নয় টি লাল জবা ফুল দিয়ে পুজো দিলেন তারা । করোনা মোকাবিলায় মহিলাদের উপবাস থেকে এই পুজো কে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ করা যায়। ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা । আর এই রোগ মোকাবেলায় নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে স্বাস্থ্য দপ্তর। আর এই করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এবার থাবা বসিয়েছে প্রান্তিক জেলা কোচবিহারে।

আরও পড়ুন: কচুদরম গ্রামবাসীর সাহসী পদক্ষেপে ধরা পড়ল এক ডাকাত, গুলি চালিয়ে পালাল সহযোগি বাহিনী

এদিন পুজোয় সামিল হওয়া মহিলাদের দাবি পশ্চিমী রাজ্যগুলিতে কিছু মহিলারা এই পুজো উপাচার করে তাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় পাঠিয়েছেন। তা দেখে তারাও করোনার করুণা পেতে এবং মারণ এই ভাইরাসের ছোবল থেকে মানুষকে রক্ষা করতে পুজোয় সামিল হন। এদিন ফাকা জমির মধ্যে এই পুজো শুরু হলে আশপাশের বহু মানুষ সেখানে ভিড় জমান। পাশাপাশি এদের অধিকাংশই মুখে কোন মাস্ক না থাকার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব ছিল না বলে অভিযোগ। মহিলারা অবশ্য বলেন তারা করোনা মুক্ত দেশ গড়তে পুজোয় সামিল হয়েছেন। তাই মুখে মাস্ক অনেকেরই না থাকলেও নিজেদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় ছিল সকলের ।

এই মহিলাদের পার্বতী দেবী রজক জানান বিহারের বারওয়ানিতে জমিতে ঘাস কাটছিল দুই মহিলা। সেখানে তাদেরকে করোনা পুজো দেওয়ার জন্য স্বপ্নাদেশ দেয়। এরপর সেখান থেকে তারাও এ খবর জানতে পেরে এদিন তারা ওই এলাকায় হাল না দেওয়া জমিতে পুজোয় সামিল হন। সোমবার ও শুক্রবার এই দুইদিন এই পুজো দেওয়ার কথাও জানতে পারেন তারা। এদিন করোনা পুজো কে ঘিরে ব্যাপক কৌতূহল ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় এলাকায় । এই পুজোর মধ্যে দিয়ে করোনা ভাইরাস শেষ হয়ে যাবে বলে এই মহিলাদের বিশ্বাস।

Related Articles

Back to top button
Close