fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মেমারি স্টেশনে আশ্রয় নিয়ে থাকা দৃষ্টিহীন বৃদ্ধাকে ধর্ষণ করে পালাল দুষ্কৃতী

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: দুষ্কৃতীর পৈশাচিক যৌন লালসার শিকার হলেন রেল স্টেশনে আশ্রয় নিয়ে থাকা ৭৬ বছর বয়সী এক দৃষ্টিহীন বৃদ্ধা। ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমান হাওড়া মেইন শাখার মেমারি স্টেশনে।

 

 

রাতের অন্ধকারে বৃদ্ধাকে জোর পূর্বক লাইনের দাঁড়িয়ে থাকা মালগাড়ির নিচে ঢুকিয়ে নিয়ে ওই দুষ্কৃতী ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। ঘটনার ১১ দিন পর গোটা বিষয়টি জানতে পারেন মেমারির একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা । তারাই বুধবার রাতে বৃদ্ধাকে সঙ্গে নিয়ে বর্ধমান জিআপিতে ধর্ষণ ও মারধরের অভিযোগ দায়ের করেছেন । ধর্ষণ-এর মামলা রুজু করে জিআরপি তদন্ত শুরু করেছে । চিকিৎসার জন্য বৃদ্ধাকে ভর্তি করা হয়েছে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ।

জানা গিয়েছে বছর দুই আগে চা খাওয়ানোর নাম করে ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল । ওই বৃদ্ধার অস্ত্রপচারও হয় । একের পর এক এমন ঘটনা সামনে আসায় প্রশ্নের মুখে রাতে রেল স্টেশনের নিরাপত্তা ।

 

 

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যা কবিতা চক্রবর্তী জানিয়েছেন , বৃদ্ধার উপর হওয়া নির্যাতনের বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তারা জানতে পারেন । ঘটনা সবিস্তার জানতে বুধবার মেমারি স্টেশানে গিয়ে তারা বৃদ্ধার সঙ্গে কথা বলেন । বৃদ্ধার জানান, ‘তাঁর বয়স ৭৬ বছর তিনি চোখে দেখতে পান না । মেমারি স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের ছাউনির নিচেই তিনি থাকেন। গত ৬ জুন গভির রাতেও সেখেনে তিনি একাই ঘুমাচ্ছিলেন । তখনই বুট জুতো পরা হিন্দি ভাসি ওই দুষ্কৃতী সেখানে হানা দেয়। বৃদ্ধা বলেন , ওই দুষ্কৃতী তার গলা টিপে ধরে জোরপূর্বক স্টেশনের পিছন দিকে দাঁড়িয়ে থাকা মালগাড়ির নিচে নিয়ে গিয়ে ঢুকিয়ে দেয় । এরপর ওই হিন্দি ভাসি দুষ্কৃতী সেখানে
তাঁর উপর শারীরিক নির্যাতন চালায় ও ধর্ষণ করে। ঘটার কথা কাউকে জানালে প্রাণে মেরে দেওয়া হবে বলে জানিয়ে ওই জায়গাতেই বৃদ্ধাকে ফেলে রেখে পালায়।’ কবিতা চক্রবর্তী বলেন , বৃদ্ধার মুখ থেকে এই ঘটনা সবিস্তার জানার পরেই বুধবার রাতে বৃদ্ধাকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা বর্ধমান জিআরপিতে অভিযোগ দায়ের করেছেন ।

 

 

স্টেশন চত্ত্বরে থাকা দৃষ্টিহীন বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগ জমা পড়ার পরেই নড়ে চড়ে বসেছে রেল পুলিশ । বৃহস্পতিবার বর্ধমান জিআরপিতে আসেন রেল পুলিশের ইনস্পেক্টর জয়জিৎ লোধ । তিনি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্য ও অভিযোগকারীনির সঙ্গে কথা বলেন । বৃদ্ধার বয়ান নথিভুক্ত করেন রেল পুলিশের তদন্তকারী অফিসার ।

 

জয়জীৎবাবু বলেন , ‘অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণের মামলা রুজু হয়েছে । প্রাথমিক তদন্তে জানাগিয়েছে আততায়ী একজনই ছিল । আততায়ীর খোঁজ পেতে বিভিন্ন সূত্র কাজে লাগানো হয়েছিল।প্রয়োজনে জেলা পুলিশেরও সাহায্য নেওয়া হবে । ’ যদিও পুলিশের সন্দেহ বহিরাগতরা কেউ এই ঘটনা ঘটায়নি । রেলের কর্মীদের উপরেই পুলিশের সন্দেহ তৈরি হয়েছে ।

Related Articles

Back to top button
Close