fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

নিজের গয়না বেঁচে প্রতিদিন ৫০০ সারমেয়দের খাওয়াচ্ছেন কল্যাণীর নীলাঞ্জনা বিশ্বাস

অভিষেক আচার্য, কল্যাণী: করোনার ফলে অভুক্ত থাকছে রাস্তার সারমেয়রা। তাদের কথা এক প্রকার ভুলেই গিয়েছে আমজনতা। কিন্তু ভোলেননি নদীয়ার কল্যানীর বাসিন্দা নীলাঞ্জনা বিশ্বাস। সোনার গয়না বিক্রি করে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে রাস্তার প্রায় ৫০০টি সারমেয়কে প্রতিদিন দুপুরে মাংস-ভাত খাওয়াচ্ছেন তিনি।

কলকাতার এনআরএস হাসপাতালে সারমেয় শাবকদের হত্যার নৃশংসতা সবাইকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। সমালোচনার ঝড় উঠেছিল সর্বত্র। কিছুদিন আগে বর্ধমানের গোদা খন্দকরপাড়া এলাকায় কেরোসিন ঢেলে শাবক-সহ মা সারমেয়টির গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল আসিয়া বিবি নামে এক মহিলা। সঙ্গে সঙ্গে মারা যায় সদ্যোজাত ছানা দু’টি। অপরদিকে নীলাঞ্জনা বিশ্বাস নিজের সোনার গয়না বিক্রি করে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে রাস্তার প্রায় ৫০০টি সারমেয়কে প্রতিদিন দুপুরে মাংস-ভাত খাইয়েও আসতে চান না প্রচারের আলোতে। তাঁর নিবেদন একটাই, প্রচার নয়, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিক সবাই। প্রতি মাসে তাঁর ব্যয় হয় প্রায় ৭০-৭২ হাজার টাকা।

তিনি পশুপ্রেমী, তিনি সমাজসেবিকা, তিনি গৃহবধূ। এমন কাজে তাঁর পরিবার ও প্রতিবেশীরা বিরোধিতা করলেও তিনি পিছপা হননি। কয়েক বছর ধরে প্রতিদিন ভাত,মাংস খাইয়ে চলেছেন সারমেয়দের। রয়েছে প্রচুর অর্থব্যয়। তাই তিনি ব্যাংক থেকে কয়েক লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। এছাড়াও নিজের প্রায় লক্ষ টাকার সোনার গয়না বেচে সারমেয়দের খাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। এছাড়াও সারমেয়দের চিকিৎসার জন্য ও তিনি প্রচুর অর্থব্যয়ও করেন।

কল্যাণী বি ব্লকের এমএ পাস গৃহবধূ নীলাঞ্জনা বিশ্বাস বড় হয়েছেন খড়গপুরে। তাঁর বাবা খড়গপুর আইআইটির প্রাক্তন অধ্যাপক। পশু-পাখির প্রতি তাঁর ভালবাসা ছোট থেকেই। নিজের ব্যক্তিগত সঞ্চয় তিনি ব্যয় করে চলেছেন সারমেয়দের জন্য। নীলাঞ্জনাদেবী বলেন, সারমেয়দের প্রতিদিন দুপুরে মুরগির মাংস ও ভাত খাওয়ানো হয়। এজন্য তিনজন কর্মী রয়েছেন। তাঁদের সাম্মানিকও দেওয়া হয়। প্রতিদিন ১৫ কেজি মাংস ও ৫৩ কেজি চাল লাগে। আগে ৩৫ কেজি চাল লাগতো। করোনার ফলে পরিমান চালের পরিমান বেড়ে গিয়েছে।

টোটোচালক সঞ্জীব দাস টোটো চালিয়ে কল্যাণী শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে সারমেয়দের জন্য খাবার নিয়ে যান। পাশাপাশি, নীলাঞ্জনাদেবী ও একইভাবে কিছু স্থানে গিয়ে সারমেয়দের খাবার দেন। স্বামীকে পাশে না পেলেও পাশে পেয়েছেন ছেলে আশুতোষ‌ ও ভাসুরের মেয়ে তানিয়াকে। বাড়িতে কুকুরের রান্নার জন্য আলাদা ঘর রয়েছে। রয়েছে মাংস রাখার জন্য ফ্রিজও। সারমেয় দের জন্য সবরকম ব্যবস্থা থাকলেও নেই হাত ধরার মতো কেউ। একাই সামলাচ্ছেন সব। তাঁর দাবি একটাই, পশুদের জন্য এগিয়ে আসুক সবাই।

Related Articles

Back to top button
Close