fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বন্ধ হয়ে যাওয়া রুপনারায়নপুর হিন্দুস্তান কারখানার ভেতর থেকে বধূর দেহ উদ্ধার

আইনী জটিলতায় ডেথ সার্টিফিকেট পেতে হন্যে হয়ে ঘুরছে মৃতার পরিবার

শুভেন্দু বন্দোপাধ্যায়, আসানসোলঃ কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে থাকা বহুদিন ধরে বন্ধ আসানসোলের রুপনারায়নপুরের হিন্দুস্তান কেবলস কারখানার ভেতরে পরিত্যক্ত কুয়োতে এক আদিবাসী মহিলাকে খুন করে তার দেহ ফেলে দেওয়া হয়। সেই দেহের ময়নাতদন্ত হয়েছিলো আসানসোল জেলা হাসপাতালে। সেই ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে কোথা থেকে মৃতার ডেথ সার্টিফিকেট পাওয়া যাবে তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন মৃতার পরিবার । সেই ডেথ সার্টিফিকেটের জন্য মহিলার পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনের দরজায় দরজায় হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বন্ধ থাকা কারখানার কুয়োর ভেতরে দেহ পাওয়া যাওয়ায় সেই এলাকার পঞ্চায়েত মৃতের ডেথ সার্টিফিকেট দিতে রাজি হচ্ছে না। কেননা কারখানার ভেতরের এলাকা কোনো গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে পড়ে না। আবার মৃত মহিলা যে এলাকার বাসিন্দা ঘটনাস্থল সেখানে না হওয়ায়, সেই পঞ্চায়েতও সার্টিফিকেট দিতে রাজি নয়। বন্ধ হয়ে থাকা ঐ কারখানার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা উমেশ ঝা বলেন, এটা ব্লক,মহকুমা বা পুলিশ প্রশাসনের বিষয়। এই নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারব না।

 

 

 

বিষয়টি জানার পরে এলাকার বাসিন্দা পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের সদস্য তথা তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি মহঃ আরমান বিভিন্ন স্তরে কথা বলেছেন। চেষ্টা করেছেন যাতে ঐ মহিলার পরিবার ডেথ সার্টিফিকেট পেয়ে যান। কিন্তু এখনো কোনো ইতিবাচক ফল মেলেনি ।আসানসোলের মহকুমাশাসক দেবজিৎ গাঙ্গুলি বলেন, চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানা ও শহর বা হিন্দুস্থান কেবলস কারখানা চত্বর সংরক্ষিত এলাকার মধ্যে পড়ে। যখন কারখানা চালু ছিল তখন সেখানে পঞ্চায়েতের কিছু ছিল না। যেমন চিত্তরঞ্জনেও নেই। এখন যেহেতু হিন্দুস্তান কেবলস কারখানা বন্ধ। অথচ সেখানকার টাউনশিপে লোকজনও আছেন। সেই কারখানার ভেতরে যদি কোন মৃতদেহ পাওয়া যায় সে ক্ষেত্রে সার্টিফিকেট কে দেবে এটা এক্ষুনি বলতে পারছেন না তিনি। তবে বিষয়টা নিয়ে নিশ্চয়ই তিনি উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

 

 

গত ৪ জুন মংলি টুডু নামে বছরের ২৬-এর এক আদিবাসী গৃহবধুর দেহ উদ্ধার হয়েছিল বন্ধ হয়ে থাকা হিন্দুস্থান কেবলস কারখানার ভেতরে থাকা একটি পরিত্যক্ত কুয়ো থেকে। উদ্ধারের ১৪ দিন আগে তাকে খুন করে সেখানে ফেলে দিয়েছিল বলে গ্রেফতার হওয়ার মৃতার স্বামী পুলিশকে জানিয়েছিল। পুলিশ সেই দেহ উদ্ধার করে আসানসোল জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করায়। কিন্তু বধূর ডেথ সার্টিফিকেট কোথা থেকে পাওয়া যাবে তা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন মৃতার বাবা বুধন টুডু। তার নিজের বাড়িটি যে গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে পড়ে সেই আছড়া পঞ্চায়েতের আধিকারিক জানিয়ে দিয়েছেন ঘটনাস্থল তাদের এলাকার মধ্যে পড়ছে না তাই তারা নিয়ম অনুযায়ী ডেথ সার্টিফিকেট দিতে পারবেন না। অন্যদিকে, কারখানাটি বন্ধ হওয়ার পর যেহেতু প্রশাসনিক ভবন বা কারখানাটি রুপনারায়নপুর গ্রাম পঞ্চায়েত তারা এই বিষয়ে সার্টিফিকেট দিতে পারবেন না বলে সেখানকার আধিকারিক জানিয়েছেন। কেননা এই কারখানার যেখান থেকে মৃতদেহ পাওয়া গেছে সেটি কারখানার ভেতরের অংশ বা বাইরের কোন অংশ কিছুই নয়। ফলে ডেথ সার্টিফিকেটের জন্য চূড়ান্ত সমস্যায় পড়েছে মৃতার পরিবার।

 

 

শুধু এইক্ষেত্রেই নয় কেবলসের কোন এলাকায় এমন যদি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা আবার ঘটে তাহলে সেখানকার বাসিন্দারা কোথায় গিয়ে কোনও সুপারিশ ছাড়াই আইনগত ভাবে ডেথ সার্টিফিকেট পাবেন তার প্রকৃত জবাব ব্লক বা মহকুমা প্রশাসনের কাছে এখন নেই। আসানসোলের মহকুমাশাসক দেবজিৎ গাঙ্গুলি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত এর একটা সমাধান করা হবে।

Related Articles

Back to top button
Close