fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বন কেটে নদীপথে কাঠ পাচারে সক্রিয় মাফিয়ারা, উদাসীন বন দফতর

সুকুমার রঞ্জন সরকার , কুমারগ্রাম: বন থেকে গাছ কেটে নদীপথে কাঠ পাচারে সক্রিয় কাঠ মাফিয়ারা। অসম বাংলা সীমানার সংকোষ নদীর জলপথে প্রতিদিন চলছে কাঠ পাচার। জলপথে কাঠ পাচারের কৌশলটি অভিনব।

 

কিভাবে চলে এই কাঠ পাচার জানতে চাইলে পাচারকারীরা জানান, এই পাচারের কাজে মোটর গাড়ির টিউব, নাইলনের দড়ি ও বাঁশ প্রয়োজন। টিউবগুলিকে হাওয়া দিয়ে ফুলিয়ে নিয়ে জলে ভাসিয়ে দিয়ে লম্বা বাঁশের টুকরো নাইলনের দড়ি দিয়ে টিউব গুলোর সাথে বেঁধে নিয়ে ভেলার আকার দেওয়া হয়। তারপর জঙ্গলের কাটা গাছের গুড়িগুলো ঐ ভেলার ওপর একটা একটা করে সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়।

এরপর জলপথে সেই কাঠের ভেলা লগির সাহায্যে নৌকার মত করে চালিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে আসা হয়। পাচারকারীদের ভাষায় এই ভেলাকে বলা হয় চালি। এক একটি চালিতে পনেরো থেকে ষোলটি গাছের গুড়ি আনা যায়। নদীতীরের নির্দিষ্ট স্থানে এই চালি ভেড়ানো হয়। সেখান থেকে ছোট গাড়ি বা ভুটভুটি করে কাঠ মাফিয়ারা কাঠ নিয়ে যান। অসম বাংলা সীমানার সংকোষ নদীর পশ্চিম তীরে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের অরন্য, পুর্বতীরে অসমের জঙ্গল।

এই দুই বন থেকেই গাছ কেটে নদীপথে পাচার করছে কাঠ মাফিয়ারা। প্রকাশ্য দিবালোকে এই পাচার চললেও বন দপ্তরের কর্মীদের নজরদারীতে দেখা যায় না বলে জানান নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ বন কর্মীদের সাথে যোগসাজসেই চলে এই কাঠ পাচার। বন দপ্তরের এক আধিকারিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি এলাকাবাসীর অভিযোগ অস্বীকার করে জানান নিয়মিত ভাবে নজরদারি চালানো সম্ভব হয়না কারণ এত বিশাল এলাকা জুড়ে নজরদারি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় লোকবল বা কর্মী দপ্তরের নেই। বাসিন্দাদের প্রশ্ন বন রক্ষায় সরকারিভাবে এত প্রচার কি তাহলে শুধুই ঢক্কানিনাদ।

Related Articles

Back to top button
Close