fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ স্থায়ী জেটি তৈরির কাজ, থমকে রয়েছে ভেসেল পরিষেবা

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: নিরাপদে ভাগীরথী পারাপারের জন্য রাজ্য পরিবহন দফতর দুটি ভেসেল দিয়েছে। কিন্তু ভেসেল মিললেও নেই স্থায়ী জেটি। তার কারণে কাটোয়া-বল্লভপাড়া ফেরিঘাটে বন্ধ রয়েছে ভেসেল পরিষেবা। আর ভেসেল পরিষেবা বন্ধ থাকায় যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই নৌকায় চড়ে ভাগীরথী পারার করতে হচ্ছে। এই ঘটনায় যাত্রীদের ক্ষোভের পারদ চড়েছে।

জলপথে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া, নদীয়া ও মুর্শিদাবাদের মধ্যে যোগাযোগ ঘটানোর ক্ষেত্রে কাটোয়া- বল্লভপাড়া ফেরিঘাটের গুরুত্ব অপরিসীম। এই ফেরিঘাটের উপর নির্ভশীল কয়েক হজার মানুষ। ফেরিঘাট থেকে যাত্রীরা যাতে নিরাপদে ভাগীরথী পারাপার করতে পারেন তারজন্য ২০১৯ সালের জুলাই মাসে রাজ্য জলপথ পরিবহণ দফতর দুটি ভেসেলস দেয়। সেই ভেসেল পরিষেবা চালু হলেও নদীয়ার বল্লভপাড়ার দিকে স্থায়ী জেটি আজ অবধি তৈরি হয়নি। নদীর পাড়ে বড় নৌকা দিয়ে অস্থায়ী জেটি তৈরি করে কয়েকদিন ভেসেল চালান হয়েছিল। কিন্তু তাতে ভেসেলের ক্ষতি হয়। এই বিষয়টি জানার পরেই কাটোয়া পুরসভা ২০১৯ সালের আগষ্ট মাসে রাজ্য জলপথ পরিবহন দফতরে স্থায়ী জেটি তৈরির আবেদন করে। পুরসভার সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে স্থায়ী জেটি নির্মাণের জন্য ৮৪ লক্ষ টাকা অনুমোদন করে রাজ্য সরকার তার পরেই জেটি তৈরির জন্য ভাগীরথী তীরবর্তী বল্লভপাড়া এলাকায় জমি চিহ্নিত করে কাজ শুরু হয়।

কিন্তু কোনও এক অজ্ঞাত কারণে জেটি তৈরির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধই রয়েছে। স্থায়ী জেটি না থাকায় প্রায় বছর খানেক ধরে দাঁড়িয়েই রয়েছে দুটি ভেসেল। আর যাত্রীরা প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই নৌকায় চড়ে জলপথে যাতায়াত করছেন। যাত্রীদের সমস্যার কথা ফেরিঘাটের ইজারাদার থেকে শুরু করে কাটোয়া পুরপ্রশাসক সবাই স্বীকার করে নিয়েছেন।

বল্লভপাড়া ফেরিঘাট হয়ে প্রতিদিন কাটোয়া থেকে নদীয়া যাতায়াত করেন আসিকউদ্দিন সেখ, তারকনাথ গুঁই প্রমুখ যাত্রীরা। তারা বলেন, রাজ্য সরকার নিরাপদে যাত্রী পারাপারের স্বার্থে দুটি ভেসেল দিয়েছে। স্থায়ী জেটি তৈরির জন্য অর্থও দিয়ে দিয়েছে। তা সত্ত্বেও শুধুমাত্র স্থায়ী জেটি তৈরি না হওয়ার কারণে যাত্রীরা ভেসেল পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের নৌকায় চড়ে ভাগীরথী পারাপার করতে হচ্ছে। জেটি তৈরির কাজ কেন থমকে রয়েছে তাও সকলেরই আজানা। যাত্রীরা চাইছেন যত দ্রুত সম্ভব স্থায়ী জেটি তৈরির কাজ শেষ করে ভেসেল পরিষেবা চালু করা হোক।

এই বিষয়ে কাটোয়া পুরসভার প্রশাসক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কাটোয়া- বল্লভপাড়া ফেরিঘাট দিয়ে প্রতিদিন ৩০-৩৫ হাজার মানুষ জলপথে যাতায়াত করেন। কাটোয়ার মানুষজনও এই ঘাটদিয়ে নদীয়া, মুর্শিদাবাদ যাতায়াত করেন। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ভেসেল পরিষেবা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভেসেল পাওয়া গেলেও জেটি না থাকায় ভেসেল চালাতে সমস্যা তৈরি হয়। স্থায়ী জেটি তৈরির কাজ শুরু হলেও করোনা অতিমারির কারণে সেই কাজ থমকে রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ বাবু বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি ডিসেম্বর থেকে ফের জেটি তৈরির কাজ ফের শুরু হবে।

Related Articles

Back to top button
Close