fbpx
অসমদেশহেডলাইন

মিজোরাম থেকে পায়ে হেঁটে কাটলিছড়ায় ওদালগুড়ির ৯ শ্রমিক, কোয়ারেন্টাইন করা হল স্কুলে

যুগশঙ্খ প্রতিবেদন, কাটলিছড়া: মিজোরাম থেকে পাঁয়ে হেঁটে ওদালগুড়ি যাওয়ার পথে নয় জন শ্রমিককে কাটলিছড়ায় আটকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা সহ স্ক্রিনিং করে একটি স্কুলে কোয়ারেন্টাইন করে রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা করল পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগ। সোমবার জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় তাদেরকে ওদালগুড়ি প্রেরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, একটানা ৩৩ জন ৩৩ ঘন্টা রেল লাইন ধরে হেঁটে রবিবার সন্ধ্যায় কাটলিছড়া বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছান মিজোরামে রেল লাইন মেরামত কাজে কর্মরত নয়জন শ্রমিক। তারা সবাই ওদালগুড়ি, জেলার বাসিন্দা। লকডাউন থাকায় হাতের টাকা ফুরিয়ে গেছে আর পকেটে এটিএম কার্ড থাকলেও সেখানে এটি এম না থাকায় টাকাও তুলতে পারেননি। ফলে বাধ্য হয়ে মিজোরামের খামরাং অস্তায়ী ক্যাম্প থেকে শনিবার সকাল নয়টায় সিদ্ধ ভাত খেয়ে পিঠে ব্যাগ ঝুলিয়ে রেল লাইন ধরে কাটলিছড়ায় পৌঁছান তারা।

ভিন রাজ্য থেকে শ্রমিকদের আসার খবর পেয়ে কাটলিছড়া পুলিশ সহ স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মীরা দ্রুত ছুটে আসেন। কাটলিছড়া হাসপাতালের ইনচার্জ ডাঃ সুব্রত দে জানান, শ্রমিকদের আসার খবর কাটলিছড়া প্রাথমিক স্বাস্ত্যকেন্দ্রের ডাঃ অলকেশ নাথের নেতৃত্বে হাসপাতালের অন্য কর্মকর্তারা দ্রুত ছুটে গিয়ে তাদের স্ক্রিনিং করেন। পরে কাটলিছড়া থানার ওসি নির্মল কান্তি বিশ্বাস এস ডি ও জেমস আইন্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদেরকে আজকের রাতে জি সি এম ভি স্কুলে থাকার ব্যবস্থা করে দেন।

সোমবার সকালে তাদেরকে হাইলাকান্দি জেলাশাসক কার্যালয়ে পাঠিয়ে সেখান থেকে থেকে প্রশাসনের মাধ্যমে নিজ জেলা ওদালগুড়িতে প্রেরণ করা হবে বলে জানা গেছে। নয়জন, শ্রমিক হলেন অনন্ত রাভা, রাজীব রাভা, অজয় রাহা রাভা, প্রেমানন্দ রাভা, সৃস্টি, শরনীয়া, মোহন রাভা, জিতু রাভা, দহিরাম রাভা। তারা টংলা, কলাগাও, পানারি থানার বাসিন্দা। তাদের পক্ষ থেকে অনন্ত রাভা বলেন, ২০১৯-য়ের মার্চে মিজোরামের খামরাং জেলায় এন সি দাস কনস্ট্রাকশনের অধীনে রেল লাইন মেরামত কাজে গিয়েছিলেন।

লকডাউনের পর মিজোরামে স্থানীয় থানার মাধ্যমে বাড়িতে যাওয়ার জন্য আবেদন করেও ব্যর্থ হন। পুলিশ কোনও গুরুত্ব দেয়নি। যার ফলে বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটে বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করে ওই শ্রমিকেরা। এদিন কাটলিছড়া বাসস্ট্যান্ডে নয়জন শ্রমিককে ক্ষুধার্ত অবস্তায় দেখে অনেকে খাবার এনে দিয়েছেন।

Related Articles

Back to top button
Close