fbpx
অন্যান্যলাইফস্টাইলহেডলাইন

বিশ্ব কুইজিন…….

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: বাঁচার জন্য খাওয়া নাকি খাওয়ার জন্য বাঁচা – এ ভাবনার কোনও মীমাংসা নেই। তবে যার জন্যই যা হোক না কেন, রসনা তৃপ্তিতে তৎপর হই আমরা সবাই। আলুসেদ্ধ ভাত পরম তৃপ্তি দিলেও, মাঝে মাঝে আমাদের স্বাদকোরকগুলি একটু বদল চায়। আর সেই বদল অবশ্যই সাধ এবং সাধ্যের মধ্যে রেখেই আমরা করতে চাই। কেউ কেউ আবার সারা পৃথিবীর কড়াই খুন্তির লড়াইকেই চেখে দেখতে চান। সেই কথা মাথায় রেখেই যুগশঙ্খ ডিজিটালে বিশ্ব কুইজিন। আজ ভারতভ্রমণ।
ভারতের প্রতি রাজ্যের নিজস্ব কিছু স্বাদ আছে। আর সেই স্বাদ সেই রাজ্য ছাড়িয়ে, ছড়িয়ে গেছে সারা ভারতে, এমনকী বিদেশের মাটিতেও। ভারতের অন্যতম রাজ্য গুজরাট। গুজরাটি রান্না মানেই সবার মুখে মুখে একটাই পদ। থেপলা। মনে পড়ছে রাজকুমার রাও অভিনীত ‘মেড ইন চায়না’ ছবিটিতে থেপলার ভূমিকা? সে যাই হোক। গুজরাট ঘুরতে গেলেই একমাত্র গুজরাটি রান্না খেতে পাবেন এমন তো নয়। এই শহর কলকাতার বুকেও রয়েছে প্রচুর গুজরাটি রেস্তোরাঁ। তবে করোনার ভয়ে সেখানে না গিয়ে বরং বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন। আজ বিশ্বকুইজিনের ভারতভ্রমণে গুজরাটি পদ। রইল খুব সহজে বানাতে পারা দুটি খুব জনপ্রিয় পদ।

থেপলা
গুজরাটের অন্যতম জনপ্রিয় পদ থেপলা। জনপ্রিয় কারণ এটি বানিয়ে অনেকদিন রাখা যায়। ফ্রিজে না রাখলেও এটি নষ্ট হয়ে যায় না। এক গুজরাটি বন্ধুকে দেখেছিলাম বাড়ি গেলেই টিফিন বক্স ভর্তি করে নিয়ে আসত থেপলা এবং সেটা থাকত প্রায় ৬ মাস। আজকাল অবশ্য থেপলা বানিয়ে বাজারেও বিক্রি হচ্ছে।

আটা এবং ব্যসন ভালোভাবে মিশিয়ে তাতে তাজা মেথিপাতা, রসুনবাটা, কাঁচালংকা বাটা, টক দই, সাদা তিল, লাল লংকার গুড়ো, আজোয়ান, হলুদ্গুঁড়ো, গরমমশলা, নুন, তেল ইত্যাদি মিশিয়ে প্রয়োজন মতো জল দিয়ে ভালোভাবে মেখে নিন। উপকরণের পরিমাপগুলো আপনি কটা থেপলা বানাতে চান তার ওপর নির্ভর করবে। থেপলার জন্য উপকরণ সহ আটা অবশ্যই হাত দিয়ে মাখবেন, রুটি মেকার দিয়ে নয়। যত হাতের চাপে মাখা হবে ততই নরম। মাখা শেষে মিনিট ১৫-২০ ঢাকা দিয়ে রেখে দিতে হবে।
এরপর ছোট ছোট লেচি কেটে অল্প আটা দিয়ে পাতলা করে বেলে নিয়ে মাঝারি আঁচে ভেজে নিতে হবে। চাটুতে প্রথমে সেঁকে নিয়ে তারপর অল্প তেল থেপলার ওপর ছড়িয়ে দিয়ে ভালো করে ভেজে নিতে হবে। এখন প্রশ্ন এটা কি দিয়ে খাবেন? মাছে-ভাতে বাঙালি থেপলা টক দই, ঝাল আচার এসব সহযোগে খেতে পারে। তবে আপনি যদি গুজরাটি হন তাহলে বোধহয় কিছুই লাগবে না। এমনি এমনি যখন তখন থেপলার জাবর কাটতে পারেন।

খান্ডবি
গুজরাটি থালিতে অনেক সময় থাকে এই পদটি। ছোট ছোট আকৃতির এই খাবারটি খেতে যেমন ভালো দেখতেও তেমনও মনোহর। ছবিতে কিংবা দূর থেকে দেখলে মনে হবে ছানা দিয়ে তৈরি মিষ্টি। কিন্তু না, এই পদটি নোনতা। খাণ্ডবি বানাতে যা যা লাগবে তার সবই আপনার হাতের কাছেই থাকে। ব্যসন,কালো সরষে, দই, আদাবাটা, কাঁচালংকা বাটা, কারিপাতা, তেল, লংকাকুচি, নুন, হলুদ, নারকেল কোড়া, জল ইত্যাদি। একটি পাত্রে এক কাপ মতো ব্যসন নিয়ে তাতে এক কাপ টক দই ও দু’কাপ জল মিশিয়ে নিন। একই সঙ্গে অল্প আদা বাটা, কাঁচা লংকা বাটা, আন্দাজ মতো নুন, হলুদও মিশিয়ে নিন। এরপর একটি ফ্রাইং প্যানে গুলে রাখা ব্যসনের মিশ্রণটি ছাকনি দিয়ে ছেকে নিন। অল্প আঁচে মিশ্রণটি ক্রমাগত নাড়তে থাকুন। ঘন হয়ে এলে নামিয়ে নিন। এবার একটি প্লেন স্টিলের থালাকে ঊল্টো করে নিন। তারওপর বেশ কিছুটা পরিমাণ ওই ঘন ব্যসন নিয়ে ছুড়ির উলটো পিঠ দিয়ে গোটা থালাটায় ব্যসনটাকে ছড়িয়ে ঠান্ডা হতে দিন।

আরও পড়ুন:কৃষি বিলের প্রতিবাদে বর্ধমানে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালো কৃষক সভা

এই সময় হাইফ্লেমে অল্প তেল বেশ ভালো করে গরম করে তাতে কালো সরষে, লংকাকুচিও কারিপাতা ফোঁড়ন দিয়ে বেশ খানিকটা নারকেল কোড়া দিয়ে হালকা সঁতে করে পাতলা করে ছড়িয়ে রাখা ব্যসনের ওপর ছড়িয়ে দিন। এবার ছুড়ির সাহায্যে ধীরে ধীরে ব্যসনটাকে লম্বা ও আড়ে কেটে রোল করে নিন। তৈরি আপনার হলুদ রঙের খান্ডবি। এই পদটি মূলত অ্যাপেটাইজার হিসেবেই খাওয়া হয়।

Related Articles

Back to top button
Close