fbpx
অন্যান্যঅফবিটদেশহেডলাইন

বিশ্ব কুইজিন….

বাঁচার জন্য খাওয়া নাকি খাওয়ার জন্য বাঁচা – এ ভাবনার কোনও মীমাংসা নেই। তবে যার জন্যই যা হোক না কেন, রসনা তৃপ্তিতে তৎপর হই আমরা সবাই। আলুসেদ্ধ ভাত পরম তৃপ্তি দিলেও মাঝে মাঝে আমাদের স্বাদকোরকগুলি একটু বদল চায়। আর সেই বদল অবশ্যই সাধ এবং সাধ্যের মধ্যে রেখেই আমরা করতে চাই। কেউ কেউ আবার সারা পৃথিবীর কড়াই খুন্তির লড়াইকেই চেখে দেখতে চান। সেই কথা মাথায় রেখেই যুগশঙ্খ ডিজিটালে বিশ্ব কুইজিন । আজ ওপার বাংলার রসনাতৃপ্তিতে বাংলার খাবারের গল্প।  

অভি নীলোৎপল: রাত পোহালেই কালীপুজো। তাই আজকে শোনাব বাংলার আদি ভূমিপুত্রদের রান্নার গল্প। কালী-কালচার বাংলার একান্ত নিজস্ব,  ভালো করে বললে বাংলার আদিবাসীদের সংস্কৃতি । শাক্তবিধি বাংলায় সুপ্রাচীন । বৌদ্ধদের থেকেই সম্ভবত বাংলায় কালীপুজোর উদ্ভব। তন্ত্র-মন্ত্রের প্রয়োগ বৌদ্ধ প্রভাবেই । আর বাংলার একদম উত্তর থেকে পূর্ব হয়ে দক্ষিণে নামলে বৌদ্ধ-শাক্ত উপাসনার অনেক প্রাচীন স্থল দেখতে পাওয়া যায় । অসম থেকে শ্রীহট্ট, সুনামগঞ্জ, কুমিল্লা-ময়নামতী, পার্বত্য চট্টগ্রাম, বান্দরবান এগুলি বিখ্যাত প্রাচীন বৌদ্ধ রুট । যে পথে বাংলা থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় যাতায়াত করতেন প্রাচীন পথিকেরা । সেই পথেই খুঁজে পেয়েছি আদিবাসিদের খাবার । আর সে কথাই আজ বলব আপনাদের।

বাংলার পূর্ব প্রান্তে মিজোরাম বর্ডারে ছবির মতন এক ছোট্ট উপত্যকা, নাম তার ‘সাজেক’। সেখানে কয়েকবছর হল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ট্যুরিস্ট স্পট তৈরি করেছে । সেখানকার আদিবাসীদের সঙ্গে বাঙালিদের মেলামেশা, সাংস্কৃতিক আদানপ্রদানও শুরু হয়েছে এই সূত্রে । ভারতীয় বাঙালিরা, যারা আরাকু ভ্যালি বেড়াতে গেছেন তারা প্রথম খাবারটি খেলেও, বাকিদের মধ্যে এটি অজানাই । বাংলাদেশের মানুষদের কাছে তো এটি একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা । আমি নিজে আরাকু ভ্যালি এবং সাজেক, দুই জায়গাতেই খেয়েছি প্রথম পদটি । স্বাদের ফারাক তো আছেই । স্বাদে আমি সাজেককেই এগিয়ে রাখব, কারণ মশলা ব্যবহার সেখানে খুবই কম । তুলনায় অন্ধ্রপ্রদেশের আরাকুতে ব্যাম্বু চিকেন প্রচুর মশলা ব্যবহার করে রান্না করা হয় । সাজেকের আদিবাসী মানুষদের মুখ থেকেই নেওয়া এই রেসিপি আজ শেয়ার করছি আপনাদের সঙ্গে।

ব্যাম্বু-চিকেন

দেশী মুরগীকে মাঝারি সাইজ করে কেটে ভালো করে ধুয়ে নিন । এবারে লবণ, হলুদ, অল্প মরিচ বাটা, পেঁয়াজ-রসুন বাটা, আদা বাটা, জিরে বাটা আর রাঁধুনি দিয়ে ম্যারিনেট করুন আধ ঘণ্টা । এবার একটি বাঁশের দুই পর্বমধ্য অর্থাৎ গিঁটের দু’ই পাশে কেটে নিন । একদিকে গিঁটটিও কেটে ফেলুন । এর ফলে বাঁশের চোঙ্গা তৈরি হয়ে যাবে সহজেই । এবার সেটি ধুয়ে নিয়ে তার মধ্যে ম্যারিনেট করা মাংস দিয়ে দিন । মুখটা আটকে দিন কলাপাতা জড়ো করে, যাতে ভালো ভাবে মুখটা আটকে যায় । এবার আপনার ছাদে বা ব্যালকনিতে কাঠকয়লা জ্বালিয়ে তাতে ‘গ্রিল’ করে ফেলুন এই মাংস পোরা বাঁশটি । চারদিক ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ভালো ভাবে গ্রিল করুন । জলের ব্যবহার নেই এতে।

গরম হলে কাঁচা বাঁশের মধ্যে থেকে যে জল বেরোবে, তাতেই সেদ্ধ হয়ে যাবে ব্যাম্বু চিকেন । প্রায় আধ ঘণ্টা গ্রিল হলে মুখের কলাপাতা খুলে পাতে ঢেলে দিন ব্যাম্বু চিকেন, সঙ্গে নরম রুটি বা পরোটা । জাস্ট জমে যাবে । আপনাদের অবগতির জন্য জানিয়ে রাখি, ব্যাম্বু চিকেনের মতন, ব্যাম্বু বিরিয়ানিও কিন্তু হয় । সে গল্প না হয় পরে কখনও করা যাবে।

 

ব্যাম্বু-টি

এটিও আদিবাসিদের চা পানের অভিনব পদ্ধতি। সরু সরু বাঁশের খণ্ড কেটে নিন। একটা গিঁট কেটে নিন বাঁকা করে ছবির মতন । এরপর তাতে দিন স্বাদমত চিনি, দুধ এবং রং-চা। লম্বা বাঁশে কাঠি দিয়ে ডালে কাঁটা দেবার মতন ঘুরিয়ে নিন কয়েকবার । ব্যাস তৈরি আপনার ব্যাম্বু টি। মজা হল, বাঁশের ফ্লেভারের সঙ্গে মিলে চায়ের স্বাদ-গন্ধ অতুলনীয় অভিজ্ঞতা এনে দেয়। এবার  ঘরে জলদি বানিয়ে ফেলুন ব্যাম্বু-টি । আমি নিজে বাঁশে রং-চা খেতেই পছন্দ করি । আপনাদের সুবিধার জন্য দুধ-চায়ের রেসিপি দিলাম। ব্যাম্বু-টি খেলে আপনি চায়ের সঙ্গে সঙ্গে কচি বাঁশের অ্যান্টিওক্সিডেন্ট গুলিও পেয়ে যাবেন । বিশেষজ্ঞদের মতে এই চা পানের ফলে আপনার হাড়, নখ ও চুল সবগুলিই পুষ্টি পাবে এবং মজবুত হবে । ত্বকের জন্যও ভালো বলে কেউ কেউ দাবি করে থাকেন সব মিলিয়ে ব্যাম্বু টি খাওয়া বেশ উপকারীই । অতএব জলদি বানিয়ে খেয়ে ফেলুন ব্যাম্বু-টি।

 

 

Related Articles

Back to top button
Close