fbpx
অন্যান্যঅফবিটপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

দোরগোড়ায় পুজো, করোনা আবহে বিষাদের সুর বাজছে পূর্ব মেদিনীপুরের পদ্মচাষিদের মুখে 

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক: সামনেই মহালয়া। পুজোর বাদ্যি বেজে উঠেছে। তবুও আজ আনন্দের দোলনায় নেই বাঙালির মন। চারিদিকে উৎসবের মেজাজটাও যেন হারিয়ে গিয়েছে। শরৎ এসেছে। কিন্তু উৎসবের লেশমাত্র নেই। পূজোও বেশি দূরে নেই। কিন্তু পূর্ব মেদিনীপুরের পদ্মচাষিদের মুখ ভার। আদৌ এবছর দুর্গাপুজো হবে তো? হলেও সেই জৌলুস থাকবে তো? এরকম অসংখ্য টানাপোড়েন এখন তাঁদের মনে। এই মুহূর্তে পদ্মফুল বিক্রির বাজার নেই। তাই বেশিরভাগ চাষির কাছ থেকে কিনে বড় দালালরা হিমঘরে রাখছেন। পূজোয় দাম বাড়ানোর জন্য। কিন্তু এ সময় চাষিরা খুচরো পদ্ম বিক্রি করতেন। সেটা কোরোনার জন্য প্রায় বন্ধ বলা যায়। চাষিরা কম দামে বাধ্য হচ্ছেন দালালদের হাতে তাঁদের উৎপাদিত পদ্ম তুলে দিতে। এই মুহূর্তে তিনটাকা পিস হিসেবে বিক্রি হচ্ছে এক একটি পদ্ম। কদিন আগে তা ছিল আড়াই টাকা।

স্বভাবতই পুজোর সময় দাঁও বুঝে দাম বাড়বে এখন থেকে হিমঘরে রাখা পদ্ম। অথচ পূজোর সময় এক একটি পদ্ম বিক্রি হয় ১০ টাকা বা তারও বেশি দামে। পূর্ব মেদিনীপুরের হাউর, ক্ষীরাই, পাঁশকুড়া, ভোগপুর, রামতারক, রাধামনি, মেছেদা, নন্দাইগাজন, নারায়ণ পাকুড়িয়া মুড়াইল, কোলাঘাট সহ দেউলটি, বাগনান, ঘোড়াঘাটা, উলুবেড়িয়াতে প্রচুর পদ্মফুলের চাষ হয়। মূলত ৪১ ও ৬ নং জাতীয় সড়কের পাশে ও দক্ষিণ পূর্ব রেলের লাইনের পাশের ঝিলে চাষ করেন চাষিরা। লিজ নিয়ে এই চাষ। এবছর খাটো বর্ষার কারণে এমনিতেই উৎপাদন কম। তাছাড়া লকডাউনে বিক্রিবাটা বন্ধ। ব্যাপক মার খেয়েছে চাষিরা। হাউরের লালু দাস, মেচেদার কাজল দাস, নিমাই মাইতি, সজনী মাইতিরা পদ্মফুলের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বিষাক্ত পোকামাকড়, সাপ এবং দূষিত জলের সঙ্গে লড়াই করে পদ্ম তুলতে হয় চাষিদের। তবে পুজোতে মেদিনীপুরের পদ্মের সঙ্গে লড়াইয়ের ময়দানে নামে বর্ধমান, বীরভূম, হুগলি ও বাঁকুড়ার পদ্মের সঙ্গে সঙ্গে ওড়িশা থেকে আগত সিঙ্গল সাইজের ছোট আকারের পদ্ম। রেললাইনের ধারের ঝিলগুলো এখন বিষাক্ত হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন:দু’দিনের কর্মসূচি নিয়ে উত্তরবঙ্গে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

কৃষিবিদদের দাবি, ঝিলগুলিতে বায়ুদূষণের প্রত্যক্ষ প্রভাব ছাড়াও বিভিন্ন বজ্র্যের রাসায়নিক প্রভাবও পদ্মের ফলন কমিয়ে দিচ্ছে। এইসব নোংরা ঝিল এবং নয়নজুলিগুলোকে সাফসুতরো করে বিষাক্ত পরিমণ্ডল শুদ্ধ করে সার দিয়ে ফুল ফোটালেও পদ্মের রং ফিকে বা ফ্যাকাসে হচ্ছে। অসময়ে কুঁড়ি ঝরে যাচ্ছে।

সারা বাংলা ফুলচাষি ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণচন্দ্র নায়েক বলেন, ফুল চাষিদের খরচ উর্দ্ধমুখি হলেও ফলনের অভাবে মারা খাচ্ছে পদ্মের বাজার। এসময় সরকারের নজর দেওয়া জরুরি। এমনিতেই এবার লকডাউনের গেরোতে নাজেহাল দশা চাষিদের। ক্ষীরাইয়ের নয়নজুলিতে পদ্ম চাষ করেন শেখ আব্দুল।পদ্ম বেচেই সংসার চলে তাঁর। কিন্তু এক শ্রেণীর দালাল, ফড়ে আর হিমঘর মালিক তাঁদের লাভের গুড় খেয়ে নেয়। ইদানিং পদ্মের নয়নজুলিতে মাছের ভেড়ির বিষাক্ত জল এসে মিশছে। কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই মিশছে। ফলে পদ্মের মৃণালগুলো পচে যাচ্ছে। কুঁড়ি আসছে না।কোথাও কোথাও যেন পদ্মের মড়ক লেগেছে মনে হয়। সব মিলিয়ে হতাশার সুর পদ্মচাষিদের মনে।

Related Articles

Back to top button
Close