fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

অকালে বাসন্তী পুজো! লক ডাউনের কারণে মার্চের পরিবর্তে জুলাইয়ে দেবীর পুজো করল রূপনারায়ণপুরের তেওয়ারি পরিবার

শুভেন্দু বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল, ২৭ জুলাই: শাস্ত্রমতে শরতের দুর্গাপুজো হলো দেবীর অকালবোধন। এবার করোনা ভাইরাসের জেরে অকাল বাসন্তী পুজো! চলতি বছরে ক্যালেন্ডারের পাতা অনুযায়ী ৩১ মার্চ বাসন্তী পুজো হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আটকাতে সেই মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছিল লক ডাউন। সেই কারণে সেই সময় কোনভাবেই নির্ঘণ্ট মেনে বাসন্তী পুজোর আয়োজন করা সম্ভব হয়নি আসানসোলের রুপনারায়নপুর গ্রামের তেওয়ারি পরিবারের। আটকে গিয়েছিল শতবর্ষ পুরানো বাসন্তী পুজো।

জুন থেকে জুলাই মাস। কিছুটা হলেও শিথিল হয়েছে লক ডাউন। তাই বিগত বছর গুলোর মত এবারও মায়ের মূর্তি এনে পুজো শুরু হল। একসময় কলেরার মহামারী থেকে রেহাই পেতে রুপনারায়নপুরের  তেওয়ারি পরিবার গ্রামে শুরু করেছিল এই বাসন্তী পুজো। এবার করোনা ভাইরাস বিশ্ব জুড়ে মহামারীর আকার নিয়েছে। তার হাত থেকে রেহাই পেতে জুলাই মাসে অকাল বাসন্তী পুজোর আয়োজন করলেন তেওয়ারি পরিবারের সদস্যরা।

জানা যায়, রূপনারায়ণপুর গ্রামের তেওয়ারি পরিবারের এই বাসন্তী পুজো শুরু হয়েছিল ১০০ বছরেরও বেশি সময় আগে। সেই সময় ওই এলাকায় কলেরা মহামারি আকার নিয়েছিল। এলাকার মানুষদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক তৈরী হয়। সেই অবস্থা থেকে নিস্তার পেতে গ্রামের তেওয়ারি পরিবার বাসন্তী পুজো শুরু করে। সেই থেকে রুপনারায়নপুর গ্রামের এই পুজোয় কোনদিন বন্ধ হয়নি বা আটকে যায়নি। কিন্তু এই বছর করোনা সংক্রমণের জেরে লক ডাউনের জন্য সেই পুজো আটকে যায়।

মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ থেকেই লক ডাউনের জন্য সব কিছু বন্ধ ছিল। সেই পরিস্থিতিতে কোনওভাবেই নির্ঘণ্ট মেনে ৩১ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত তেওয়ারি পরিবারের পক্ষে বাসন্তী পুজোর আয়োজন করা সম্ভব হয় নি। পুজোর কোনও সামগ্রী জোগাড় করা সম্ভব নয় এমন পরিস্থিতিতে, তাই তখনকার মত পুজো পুজো স্থগিত রেখেছিলেন তেওয়ারি পরিবার। যদিও ঐতিহ্যবাহী পরিবারের পুজোকে কোনওভাবে তারা বন্ধ করতে চাননি। সেজন্যই এবার বাসন্তী মন্দিরে সোমবার থেকে সেই আটকে যাওয়া পুজো শুরু হয়।

পরিবারের অন্যতম প্রবীণ সদস্য কীঙ্কর তেওয়ারি বলেন, নিয়ম মেনে ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত যাবতীয় উপাচারের মধ্যে দিয়েই পুজো হবে। কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনা করে কোনও জমায়েত বা উৎসব হবে না। অসময়ে হলেও এই পুজোর আয়োজন করতে পেরে তারা মন থেকে স্বস্তি পেল বলে জানান কীঙ্করবাবু।

Related Articles

Back to top button
Close