fbpx
ব্লগহেডলাইন

বাংলাদেশে বা ভারতীয় উপমহাদেশে করোনা সুধিধা করতে পারবে না?

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক: ভারতের রামদেব বাবা বলেছেন, ‘নাকের ছিদ্রে দু’ফোঁটা সরিষার তেল দিলে, শ্বাসনলিতে থাকা করোনাভাইরাস পেটে চলে যাবে। আর সেখানে অ্যাসিডে জীবাণুগুলো মারা পড়বে।’ কথাটি’র সত্যমিথ্যা যাচাই করার কোন উপায় নেই, কিন্তু নাকে তেল দিলে কোন ক্ষতি নেই! আমরা ছেলেবেলায় বিশেষত: শীতকালে দুই নাক, কান, বুকে, হাতে-পায়ে সরিষার তেল মেখে নদীতে বা পুকুরে স্নান করতে নামতাম। আমরা নাভিতে তেল দিতাম, আমি মাঝে মধ্যে এখনো দেই। ছোটবেলায় শুনেছি নাভিতে তেল দিলে ঠোঁট বা পায়ের গোঁড়ালি ফাঁটে না? সত্যমিথ্যা যাচাইয়ের দরকার কি, ক্ষতি তো নেই? হয়তো এ কারণে, জীবনেও আমার ঠোটঁ বা পায়ের গোঁড়ালি ফাটেনি।

 

করোনা ভাইরাসের আগমনের পর প্রায়শ: আমি স্নানের আগে নাকে, কানে, নাভিতে, বুকে, হাতে-পায়ে, বা মাঝে-মধ্যে মাথায় সরিষার তেল দিচ্ছি। এরপক্ষে যুক্তি হচ্ছে, যেহেতু আমরা ছোটবেলায় এগুলো করেছি, এবং এতে কোন ক্ষতি নেই, তাহলে এখনো করা যেতে পারে। উপকারে লাগলে ভালো, না লাগলে নেই?বৈদিক সূত্রের উদৃতি দিয়ে করোনার শুরুতে লিখেছিলাম, এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে নিউইয়র্কে করোনা কমতে শুরু করবে। বোধগম্য কারণে ঢাকার বড় কোন কাগজে তা ছাপা হয়নি, ইন্টারনেটে হয়েছে, কলকাতার দৈনিক যুগশঙ্খ তা প্রথম পাতায় ছেপে মানুষের মনে আশা জুগিয়েছে।

 

আরো লিখেছিলাম, জুন মাসে এটি দ্রুত কমতে থাকবে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে এটি শেষ হবে। ধর্ম বিশ্বাস নয়, সূর্য্যের অবস্থান থেকে একটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠান এটি বলেছে। সূর্য্য-চন্দ্র বা গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে অনেক কিছু ঘটে, বিজ্ঞান তা মানে, যেমন জোয়ার-ভাটা বা পূর্ণিমা-অমবস্যা ইত্যাদি। এটি আমার লেখার কারণ ছিল, মানুষকে আশা’র কথা শুনানো। হলে ভালো, নাহলে তো কোন ক্ষতি নাই? সামাজিক মাধ্যমে অনেকে মৃত্যু’র ভুয়া খবর দিচ্ছেন, মৃত্যু’র ভুয়া খবর দেওয়ার চাইতে আশার কথা শোনানো ভালো।

নিউইয়র্কে একজন সংস্কৃতিকর্মী মারা গেছেন। তাঁর শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী তাকে নাকি দাহ করা হবে। বিষয়টি পারিবারিক, অন্যের নাক গলানো অনুচিত, অথচ একজন সুড়সুড়ি দিলেন!

বাংলাদেশে বা ভারতীয় উপমহাদেশে করোনা ভাইরাস আমেরিকা বা ইউরোপের মত জাঁকিয়ে বসতে পারবে না বলে আমি বারবার বলছি, এখনো বলছি। যদি হতো তাহলে এতদিনে হয়ে যেতো। এরমানে এই নয় যে, আপনি মাঠে ফুটবল খেলতে যাবেন! লক-ডাউন মানতে হবে, সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ইমিউন সিষ্টেম শক্তিশালী করতে হৰে। আমার ধারণা, সরাসরি রুগীর সংস্পর্শে না আসলে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হবার সম্ভবনা কম থাকবে। এই ধারণা সত্য না হলেও কারো কোন ক্ষতি হবেনা? এক বাঙ্গালী ডাক্তারের ভিডিও দেখেছিলাম।

 

তিনি বলছেন, ৭০’ ফারেনহাইট্স তাপমাত্রায় এই ভাইরাস মরেনা ঠিকই, কিন্তু নিস্তেজ হয়ে পরে বা বিস্তার করার ক্ষমতা হ্রাস পায়। এই থিওরি আশা জাগানিয়া, সত্য হলে ভালো, না হলে ক্ষতি নেই? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোদ পোহাতে! সুযোগ থাকলে রোদে বসুন। নিউইয়র্কে শনিবার ৬৩’ ফারেনহাইট তাপমাত্রা ছিলো, অনেকে ব্যাকইয়ার্ডে বা বাড়ির সামনে বসেছেন। সুযোগ পেয়ে আমি দুই ঘন্টা ফুলের বীজ বপন করলাম। উপমহাদেশে মানুষের ইমিউন সিষ্টেম শক্তিশালী। ইউরোপ-আমেরিকায় মানুষ ‘পিউর’ খাদ্য খেয়ে, বা অপেক্ষাকৃত বিশুদ্ধ পরিবেশ বা আবহাওয়ায় থেকে এদের ‘ইমিউন’ সিষ্টেম ততটা শক্তিশালী নয়?

 

কিন্তু বাংলাদেশ বা ভারতীয় উপমহাদেশে পরিবেশ পল্যুটেড, ধুলাবালি সর্বত্র, মানুষ ভেজাল খেতে অভ্যস্ত, জীবন কষ্টকর, এগুলো জীবনযাত্রার জন্যে ‘নেতিবাচক’ হলেও ‘করোনা ভাইরাস’ থেকে বাঁচার জন্যে আপাতত: ‘ইতিবাচক’, এতে ইমিউন সিষ্টেমও পল্যুটেড, করোনা ভাইরাসের তেমন সুবিধা করার সুযোগ নেই? আমরা আগে এই পরিবেশে ছিলাম, গুলিস্তানের মোড় থেকে ভাঁপা পিঠা বা ফার্মগেটের কর্নার থেকে কাঁচা বুট বা শশা লবন দিয়ে খেয়েছি, কিচ্ছু হয়নি। এখন ঢাকায় ফুটপাত থেকে খাওয়া তো দূরের কথা, জল খেলেও আমাদের সহ্য হয়না! অর্থাৎ পরিবেশ। আমরা যখন জগন্নাথ হলে থাকতাম, তখন ‘আমাশয়’ রোগ লেগেই থাকতো। কত ‘ফ্লাজিল’ খেয়েছি, কিচ্ছু হয়নি। সেটা ছিলো জগন্নাথ হলের ‘ডাইল (ডাল)’-র জন্যে। যিনিই খেয়েছেন, তিনিই মজেছেন! অথচ না খেয়ে তো উপায় ছিলোনা! জগন্নাথ হল থেকে বেরুনোর সাথে সাথে ‘আমাশয়’ও বেরিয়ে গেছে! এটাই পরিবেশ। বাংলাদেশের পরিবেশে করোনার সুবিধা করার কথা নয়?

 

বাংলাদেশে অনেকেরই বিসিজি টিকা দেয়া আছে। এই থিওরি কি সত্য যে, যাদের বিসিজি টিকা দেয়া আছে, তাঁরা আক্রান্ত হচ্ছেন, কম? কোনও পরিসংখ্যান নেই, তবে একটি নিউজ দেখেছিলাম। কথা হচ্ছে, যাদের বিসিজি যখন দেয়া আছে, তাঁদের লাভ হলে ভালো, নাহলে তো ক্ষতি নেই? বাঁহাতে তাকিয়ে দেখি, আমারও বিসিজি দেওয়া আছে, মনকে তো একটু শান্তনা দেয়া যায়, নয়কি? এ সময়ে তাই বা কম কি? প্রাণায়ামের কথা বলা হচ্ছে। এতে কি কাজ হয়? কেজানে? প্রাণায়াম হচ্ছে নিঃশ্বাসের ব্যায়াম, করলে ক্ষতি কি? আমি প্রায়শ: করার চেষ্টা করি, বিশেষত: যখন কাজে যেতে ড্রাইভ করি। যারা সমাধি করতে পারেন, তাঁরা ভালো আছেন তা বলা বাহুল্য। ইয়োগা এখন বিশ্বে স্বীকৃত। পঁচিশ বছর বয়সে আমি ইয়োগা শুরু করি, এখনো মাঝে মধ্যে সামান্য করি। আমেরিকায় আসার ৩/৪ বছর পর থেকে আমি ‘ওয়াইএমসিএ’-র সদস্য, আজো সেখানে যাই। অনেকে বলেন, দাদা, বেশিদিন বাঁচার জন্যে ব্যায়াম করেন? বলি, ‘না, যতদিন বাঁচি, যাতে যতটা সম্ভব সুস্থভাবে বাঁচি, মরণ এলে বাইবাই’।

‘মরণরে, তুঁহু মম শ্যাম’-এ থেকে বাঁচার তো কোনও উপায় নেই, তবে সুস্থ থাকার তো উপায় আছে? তদুপুরি, খাদ্যাভ্যাস। বাংলাদেশের মানুষ নিরামিষ ভোজী না হলেও শাকসবজি, লতা-ডগা, নানান ভেজিটেবল খেতে অভ্যস্থ। ভারতীয়রা মোটামুটি নিরামিষ ভোজী। উপমহাদেশে প্রচুর স্থানীয় ফল পাওয়া যায়। করোনা তান্ডবে অনেক ‘শ্লটারিং হাউস বা পশুবধ কেন্দ্র’ বন্ধ হয়ে গেছে। ভেজিটেবল উৎপাদন বন্ধ হয়নি। শরীরে প্রোটিনের জন্যে মাংসের প্রয়োজন হয়তো আছে, কিন্তু খাদ্য হিসাবে ভেজিটেবল অনন্য, সবার উপরে। উপমহাদেশের মানুষ প্রচুর ভেজিটেবল ও দেশীয় ফলমূল খেতে অভ্যস্থ, এটি একটি ভালো দিক। মোদ্দা কথা হচ্ছে, বাংলাদেশ ও উপমহাদেশের মানুষ ভালো থাকুক, তা আমরা চাই। মানুষকে তাই আশার কথা শোনাতে চাই। জীবনের কথা শোনাতে চাই।

Related Articles

Back to top button
Close