fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মর্তে যমরাজ, নিয়ম ভঙ্গ করলেই জুটছে শাস্তি

অভিষেক আচার্য, কল্যাণী: মর্তে যমরাজ। সাথে খাতা হাতে চিত্রগুপ্ত। এসেছে তিন যমদূত ও। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় যমালয়ে গিয়ে অভিযোগ করেছিলেন সেই ১৯৫৮ সালে। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই সঙ্গীসাথী নিয়ে মর্তে এলেন যমরাজ। ভাবছেন ভানুর মত আপনাকেও তুলে নিয়ে যাবে নাতো? একেই করোনা আতঙ্ক তার উপর শিয়রে যম। প্রকাশ্যে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। কি ভয় পাচ্ছেন? জেনে নিই আসল ঘটনা কি?

নদীয়ার শান্তিপুরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতে দেখা গেল যমরাজ কে। তিন যমদূত ও চিত্রগুপ্ত ও বিদ্যমান। মাস্ক পরা অবস্থায় না দেখলে বা সোশ্যাল ডিস্টেন্স না মানলে গদা হাতে যমরাজ তেড়ে যাচ্ছেন৷ তা দেখে অনেকে পালালেও, রিস্তার নেই। যম আছে পিছে৷  যমালয়ের যমদূত জীবন্ত মানুষকে ধরে নিয়ে গিয়ে যাওয়ার পর যে কান্ড ঘটেছিল সে গল্প সবারই জানা৷ এবার যমরাজ সেই ভূল করবেন না৷ পাপ করলেই মর্তালোকে বসেই শাস্তি মিলবে হাতেনাতে। কোভিড-19 মোকাবিলার নিয়ম ভঙ্গ করলেই যমরাজের ভারি গদা সোজা গিয়ে পড়বে নিয়ম্ভঙ্গকারীর মাথায়৷

আরও পড়ুন: মেচেদায় গ্রামের ভিতরে স্যানিটাইজ করার দাবি

শান্তিপুর পুরসভা সূত্রের খবর, করোনা মোকাবিলায় মাস্ক আর সোশ্যাল ডিস্টেন্স না মানলে যে বিপদ রয়েছে তা বোঝাতে মৃত্যুর দেবতা যমরাজের ‘দারস্থ’ হয়েছেন তাঁরা। রাস্তায় তদারকির এই নাট্যপরিকল্পনা যে বেশ অভিনব, তা বলাই বাহুল্য। এমন উদ্ভাবনীশক্তি সম্পন্ন নতুন নতুন পরিকল্পনা সহজে সচেতনতা বৃদ্ধিতে খুবই সাহায্য করে৷ তাই এই পরিকল্পনা৷
পুরসভা সূত্রের আরো জানা গিয়েছে, যে-ই নিয়ম ভাঙছে, তাকে শাস্তি স্বরূপ গদার মার দিচ্ছেন যমরাজ। আর খাতায় নাম লিখে নিচ্ছে চিত্রগুপ্ত। শুধু তাই নয়, যমরাজ ও চিত্রগুপ্ত পথচারীদের সাবধান করছেন৷ কেউ মাস্ক না পরলে সেই তার পেছনে চিৎকার করতে করতে দৌড়চ্ছেন তারা৷ পিছন ফিরে দেখে অনেক কিছুটা থতমতও খাচ্ছেন৷

যমরাজ চিল চিৎকারে সাবধান করে দিচ্ছেন প্রত্যেককে৷ কেউ আবার মাস্ক না পরার অজুহাত দিলে তার কপালেই জুটছে হুঙ্কার৷ বুঝিয়ে দিচ্ছেন আবার লঙ্ঘন করার জন্য ভয়ও দেখাচ্ছেন ৷ শান্তিপুরের বাজারসহ বিভিন্ন পৌরসভা এলাকায় যেখানে ভিড় বেশি সেইসব জায়গায় দেখা গেল এমনই দৃশ্য৷ এই দৃশ্য দেখতে এদিন সাধারন মানুষের কৌতুহলও কম ছিল না৷ বহু চেষ্টাতেও যখন কেউ লক ডাউন মানছেন না। পড়ছেন না মাস্ক, পরোয়া করছেন না সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সের তখন মর্ত লোকে জীবন্ত যমকে কাজে লাগাতে চাইছে শান্তিপুর পুরসভা৷ যমের ভয়ে মানুষ কতটা সচেতন হোন সেটাই দেখার।

Related Articles

Back to top button
Close