fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বাংলার মাথা কেটে নিলেও নত হবে না, তোপ ফিরহাদের

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: দিল্লি বাংলার মাথা কেটে নিলেও মাথা নত হবে না। তোপ দাগলেন পুরমন্ত্রী তথা পুর প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিল্লির ভিডিও কনফারেন্সে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, ‘বাংলা চিরকাল মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। আগামী দিনেও বাংলা মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকবে। দিল্লি সেই মাথা কেটে নিতে পারে। কিন্তু বাংলা মাথা নত করতে পারবে না। যারা বাংলা কে দিল দিল গুজরাটের মত করতে চাইছেন তাদের মনস্কামনা কখনো পূর্ণ হবে না। যতই চেষ্টা করুক বাংলা কে বাদ দিয়ে এগোতে পারবে না।’

রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে দুদিন বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আগামীকাল যে সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তা সেইসব রাজ্যের মধ্যে রয়েছে বাংলার নাম। তবে বক্তাদের মধ্যে নেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। এই নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ফের একবার বঞ্চনার অভিযোগ এনেছে রাজ্যের শাসক দল। এই নিয়ে সকাল থেকেই সোশাল মিডিয়াতেও সরব হয়েছে একাধিক তৃণমূল নেতৃত্ব। করোনা পরিস্থিতিতে কেন্দ্র রাজ্যকে যথাযথ সাহায্য করছে না এই মর্মে বারবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছে রাজ্য।

এছাড়াও আমফান পরবর্তী পরিস্থিতিতেও কেন্দ্র যথাযথ সাহায্য করেনি বলে অভিযোগ করেছিল রাজ্য। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও বলেছেন এর আগে যখন ভিডিও কনফারেন্সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তখনও পশ্চিমবঙ্গকে কোন কথা বলতে দেওয়া হয়নি। এরপর ফের একবার আগামীকালের বৈঠকে বক্তাদের তালিকা নাম উঠলো না পশ্চিমবঙ্গের।

ফিরহাদ আরও বলেন, ‘ বাংলা হল স্বয়ংসিদ্ধা তাই বাংলা মাথা তুলে দাঁড়াবে। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার নেত্রী হবে। বাংলায় রয়েল বেঙ্গল টাইগারের জন্ম হয়। বাংলাকে বঞ্চনা করে দিল্লির সরকার বাঁচতে পারবে না। স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয়েছিল বাংলা থেকে। সুভাষচন্দ্র বসু, ক্ষুদিরাম, মাস্টারদা সূর্যসেন সবাই বাংলায় জন্ম নিয়েছেন। এমনকী বিনয়-বাদল-দীনেশ পর্যন্ত বাংলার ইতিহাস কে সমৃদ্ধ করছেন। তাই যতই বঞ্চনা করুক বাংলার ১০ কোটি মানুষের মন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম মুছে ফেলা যাবে না।’

এর আগে সোশ্যাল মিডিয়াতেও ফিরহাদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বক্তাদের তালিকায় নেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর নাম। গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করার প্রচেষ্টায় আবারও কেন্দ্রীয় সরকার। সুপরামর্শ ও গঠনমূলক সমালোচনা নিতে অপারগ বিজেপি সরকার।’

এই প্রসঙ্গে সরব হয়ে তৃণমূল বিধায়ক কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছেন, “কেন্দ্রের ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত কেন তারা সব সময় পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সঙ্গে বিমুখ ব্যবহার করেন। আমরা এখন যে সংকট পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি তাতে রাজ্য কেন্দ্রের একসাথে লড়াই করা উচিত।” প্রশ্ন তুলে কাকলি দেবী আরও লিখেছেন, “যদি মুখ্যমন্ত্রীর বলা কথায় তার এতই ভয় লাগে তাহলে সেও মুখ্যমন্ত্রীকে ভিডিও কনফারেন্সের বৈঠকে ডেকেছেন বা কেন?”

একইভাবে কেন্দ্রকে সমালোচনা করে রাজ্যের স্বাস্থ্য ও রেলমন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদী লেখেন, “কেন্দ্র নিজেকে প্রকাশ করার বিষয়ে এতটাই উদ্বিগ্ন যে রাজ্যের করোনা সংক্রান্ত গঠনমূলক সমালোচনা শুনতে চাইছেনা। তাই প্রধানমন্ত্রীর সাথে সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীদের ভিডিও কনফারেন্সে আমাদের মুখ্যমন্ত্রীকে কেবল নিঃশব্দ দর্শকের ভূমিকায় রাখা হয়েছে । বাংলার মানুষ এটাকে ক্ষমা করবে না!”

Related Articles

Back to top button
Close