fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

বিবাহ-বর্হিভূত সম্পর্ক জেনে ফেলাতেই খুন তপসিয়ার যুবক, দাবি পুলিশের

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: পরিবারের সদস্যদের জেরা করেই তপসিয়ার যুবক খুনের কিনারা করে ফেলল পুলিশ। নিজের বাড়িতেই নৃশংস ভাবে খুন হতে হয়েছিল বছর ৩৫-এর অভিজিৎ রজককে। ঘটনা তদন্তে নামে পুলিশ বুঝতে পারে বাইরের কেউ নয় এই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাড়ির লোকেরাই। কিন্তু খুনের উদ্দেশ্য কিছুতে পরিষ্কার হচ্ছিল না পুলিশের কাছে।

অবশেষে ক্রমাগত জেরার মুখে অভিজিতের ছোট কাকিমা প্রিয়াঙ্কা রজক সমস্ত পরিকল্পনার কথা স্বীকার করে নিলে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হয় পুলিশের কাছে। গ্রেফতার করা হয় অভিজিতের বড় কাকা চন্দন রজক এবং ছোট কাকিমা প্রিয়াঙ্কা রজককে। শুধু তাই নয়, গোটা ঘটনার তদন্তে উঠে এল ছোট কাকিমার সঙ্গে বড় কাকার বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক এবং পারিবারিক সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার চাঞ্চল্যকর তথ্যও।

প্রসঙ্গত, তপসিয়ার গোবরা গোরস্থান রোডের বামন পাড়ায় ১ সেপ্টেম্বর ভোররাতে বাড়ির বিছানাতেই গলা কাটা রক্তাক্ত অবস্থায় দেহ উদ্ধার হয়েছিল যুবক অভিজিৎ রজকের। তাঁর এক কাকিমা মৌসুমী রজক জানান, ভোর সাড়ে ৪ টা নাগাদ পরিবারের সদস্যরা বাড়ির মূল দরজার তালা ভাঙা এবং দুটি সাইকেল উধাও দেখেছিলেন। তাদের দাবি ছিল চুরির ঘটনা দেখে ফেলায় খুন হতে হয়েছে অভিজিৎকে।

কিন্তু পারিপার্শ্বিক বেশ কিছু তথ্য প্রমাণের জেরে সন্দেহ বেড়ে যায় তদন্তকারীদের। প্রথমত সাইকেল চুরি দেখে ফেলায় খুনের ঘটনা অবিশ্বাসযোগ্য। তার ওপর চোর চাবি নিয়ে গেট খুললে যত্ন করে স্বস্থানে কেন রেখে যাবে, তা পরিষ্কার হয়নি তদন্তকারীদের কাছে। যে সাইকেল চুরি হয়েছিল, সেই সাইকেলের টায়ার পাংচার ছিল। কাজেই সেই সাইকেল চুরি করার পেছনে কোন যুক্তি নেই। শুধু তাই নয়, বাড়িতে কে শেষবার কখন অভিজিৎ কে দেখেছিলেন, তা নিয়ে এক একজন এক এক রকম ভাবে কথা বলতে থাকেন।

 

বাড়ির বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহের সময় তদন্তকারীরা দেখেন, বাড়িতে সবজি কাটার ছুরিতে রক্ত লেগে রয়েছে। কিভাবে ওই ছুরিতে রক্ত লাগল তার প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি।
বাড়ির লোকের দাবি অনুযায়ী, চোর বাড়ির পিছনের গেট দিয়ে এসেছিল। অথচ দেখা যায়, পিছনের গেটের দিকে আগাছা ভর্তি, আর পিছনের গেট থেকে পুকুরের দিকে রাস্তা আগাছা পরিষ্কার করা। বাড়ির সামনে আগাছা রয়েছে, অথচ কেন দূরের আগাছা পরিষ্কার করা হল? প্রথম দিন পুকুরে ডুবুরি নামিয়ে খোঁজাখুঁজি চলল কিছু না পেলে পরের দিন স্থানীয় যুবকদের কাছ থেকে পুলিশ ফের ডুবুরি নামিয়ে দেখতে পায়, দুটি সাইকেল রয়েছে পুকুরে। পুলিশের কাছে পরিষ্কার হয়ে যায়, কোনও চোর সাইকেল নিয়ে পালায়নি। সাইকেল উদ্ধার হওয়ায় অভিজিতের ছোট কাকিমা প্রিয়াঙ্কা রজকের ভাবভঙ্গিই পালটে যায়। তাকে চেপে ধরে ক্রমাগত জেরা শুরু করতেই সে জেরার মুখে ভেঙে পড়ে।

জানা গিয়েছে, ছোট কাকা সোমনাথ রজক কাজের সূত্রে বেশিরভাগ সময়েই বাড়িতে থাকতেন না। সোমনাথ ও তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কার কোনও সন্তান ছিল না। এদিকে স্বামী বেশিরভাগ সময়ে বাইরে থাকার সুবাদে অভিযুক্ত বড় কাকা চন্দন রজকের বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিল ছোট কাকিমা প্রিয়াঙ্কা রজক। তাদের পরিকল্পনা ছিল, অভিজিতের ছোট কাকা সোমনাথকে সরিয়ে দিয়ে পারিবারিক সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়া। তার জন্য তারা পরিকল্পনাও করছিল।

কিন্তু একদিন চোখের সামনে বড় কাকা ও ছোট কাকিমা অবৈধ ব্যাভিচার দেখে ফেলে অভিজিৎ। সে কাকাকে সমস্ত কিছু জানিয়ে দেবে বলে তাদের হুমকিও দেয়। প্রিয়াঙ্কার স্বামী সবকিছু জেনে গেলে বিপদ বেড়ে যাবে, এই আশঙ্কায় অভিজিৎকে তার বিছানাতেই ঘুমন্ত অবস্থায় বাড়ির সবজি কাটার ছুরি দিয়ে খুন করে চাদর চাপা দিয়ে দুটো সাইকেলকে গায়েব করে পুকুরে ফেলে দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে সুন্দর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযুক্তদের আচরণ ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণে ৬ দিনের মধ্যেই ঘটনার কিনারা করে ফেললেন তদন্তকারীরা।

Related Articles

Back to top button
Close