fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

বেড থেকে পড়ে মৃত্যু ক্যানসার আক্রান্ত কিশোরীর, গাফিলতির অভিযোগে কাঠগড়ায় এনআরএস

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়,কলকাতা: সামান্য কিছু সময়ের জন্য বুধবার ভোরে ক্যানসার আক্রান্ত মেয়ে ফাল্গুনী দেবনাথকে হাসপাতালের বেডে রেখে শৌচাগারে গিয়েছিলেন শিখা দেবনাথের মা। হঠাৎই ফিরে এসে দেখেন, ঘটে গিয়েছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বেড থেকে মাটিতে পড়ে মাথা ফেটে গলগল করে রক্ত বেরোচ্ছে মেয়ের। মায়ের অভিযোগ, বারবার ডেকে পাঠানো সত্ত্বেও হাসপাতালের চিকিৎসক থেকে নার্স কেউই-ই আসেননি। বেলা ১২ টা নাগাদ মায়ের কোলেই মৃত্যু হয় তার মেয়ের। সোদপুরের মহিষপোতার বাসিন্দা মৃতা কিশোরী ফাল্গুনীর পরিবার আঙুল তুলেছে হাসপাতালের গাফিলতির দিকেই।

জানা গিয়েছে, বছর তেরোর ওই কিশোরী ফাল্গুনী দেবনাথ  ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত ছিল। ঠাকুরপুকুর ক্যানসার রিসার্চ ইনস্টিটিউটে কিছুদিন চিকিৎসা চলার পর সোমবার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে আসা হয়। ফাল্গুনীর মা ওয়ার্ডে মেয়ের সঙ্গেই ছিলেন। এদিন সকাল সাতটা নাগাদ মা বাথরুমে যান। সেখান থেকেই মেয়ের চিৎকার শুনতে পান। দৌড়ে এসে দেখেন মেয়ে বেড থেকে মেঝেতে পড়ে গিয়েছে। অভিযোগ, এরপর মেয়েকে কোলে নিয়েই বসেছিলেন মা। টানা চার ঘণ্টা পর মায়ের কোলেই মৃত্যু হয় ওই কিশোরীর। কিশোরীর বাবার অভিযোগ, “আমার মেয়েটাকে ওরা চিকিৎসা না দিয়েই মেরে ফেলল। মেয়ে পড়ে যাওয়ার পর আমি দৌড়ে ডাক্তারবাবুকে ডাকতে যাই। উনি জানান রাউন্ডে আছি, পরে আসছি। কিন্তু তিন ঘণ্টা মেয়েটা পড়ে থাকলেও কেউ আসেনি।”

যদিও চিকিৎসায় গাফিলতির সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফাল্গুনীর ওয়ার্ডের চিকিৎসক। তাঁদের দাবি, সোমবারই পরিবারকে বলা হয়েছিল দুই ইউনিট রক্ত লাগবে। কিন্তু তাঁরা সে রক্ত জোগাড় করেননি। এমনকি রক্ত যে জোগাড় করেননি সেটাও জানাননি।মঙ্গলবার ফাল্গুনী বেড থেকে পড়ে যাওয়ার পর লগবুকে সিটি স্ক্যানের উল্লেখ করে নিয়ে আসতে বলা হয়। লগবুকে সে কথার উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু ফাল্গুনীকে কোলে নিয়েই বসেছিলেন মা। প্রশ্ন উঠেছে, মা না বুঝলেও নার্সরা কেন এগিয়ে আসেননি। এই প্রশ্নের অবশ্য উত্তর পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের সুপার ডা: করবী বড়াল জানিয়েছেন, ‘ঘটনার তদন্ত চলছে। কারোর বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ মিললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Related Articles

Back to top button
Close