fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

একই ওড়নায় ফাঁস দিয়ে যুবক যুবতীর মৃত্যু মালদায়

মিল্টন পাল, মালদা: একই ওড়নায় ফাঁস দিয়ে যুবক যুবতীর মৃত্যু। প্রেম না অন্য কোনও ঘটনা তা নিয়ে রহস্য দানা বাঁধতে শুরু করেছে। প্রাথমিক ভাবে তাদের প্রেমিক যুগল মনে করা হলেও বাড়ির ও এলাকার মানুষের দাবি তাদের একসঙ্গে কোনোদিন ঘুরতে দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নং ব্লকের কুশীদা গ্রাম পঞ্চায়েতের নসরপুর গ্রামে। মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম পবিত্র সিংহ (১৭)। বাড়ি কুশীদা গ্রাম পঞ্চায়েতের কুতুবপুর গ্রামে। নিরূপা সিংহ (১৫)। বাড়ি কুতুবপুর গ্রামেই । মেয়ের বাড়ি সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো খাওয়া, দাওয়া করে বুধবার রাত্রিবেলা তারা ঘুমিয়েছিল। নিরূপা তার বোনের সঙ্গে এক ঘরে ঘুমোয়। সকালে উঠে তার মা মনু সিংহ দেখেন মেয়ে নিরূপা ঘরে নেই।তারপরেই খোজাখুজি শুরু করে। এরপরই এই খবর শুনতে পায়। এদিকে ছেলের বাড়ির সূত্রে জানা যায় কাল ট্রাক্টরে করে জমির ধান  নিয়ে আসার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল।কিন্তু তারপর থেকে তার আর দেখা পাওয়া যায়নি। ফোন করলে ফোনেও পাওয়া যায়নি। সকালবেলা খবর আসে ছেলে স্থানীয় একটি আমবাগানে আম গাছের সঙ্গে আত্মঘাতী হয়েছে গ্রামেরই আর এক যুবতীর সঙ্গে।

তবে এই ঘটনায় হতবাক সকলেই।কারণ তাদের মধ্যে সম্পর্কের কথা পরিবার বা এলাকার কেউ জানত না। একসঙ্গে কোনোদিন ঘুরতেও দেখা যায়নি। শুধু মেয়ের বাড়ি থেকে তাদের একটি ঘনিষ্ঠ যুগল ছবি উদ্ধার হয়েছে। নশরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজেন সিংহ প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে প্রথম দেখেন এই ঘটনা। তারপর এলাকাবাসী এবং তাদের বাড়ির লোককে খবর দেন।

মৃত যুবকের ভাই বিক্রম জানান, “গতকাল সন্ধ্যে বেলা জমির ধান ট্রাক্টরে আনার জন্য জমি গেছিল দাদা। কিন্তু পরে জমিতে গিয়ে আমি  দাদাকে দেখতে পায়নি।ফোন করলেও ফোনে পায়নি। আমরা ভাবি  হয়ত কোথাও গেছে।অবশেষে সকালে এই খবর আসে। কিন্তু ওই মেয়ের সাথে  দাদার সম্পর্কের ব্যাপারে আমাদের কিছু জানি না।” মেয়ের মামা নিত্যানন্দ সিংহ বলেন, ” ছেলে,মেয়ে দুজনেই খুব ভাল ছিল।ওদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক ছিল জানতাম না। কিভাবে কি হল ভেবে পাচ্ছি না। আমরা এই ঘটনার পূর্নাঙ্গ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে,মৃতদেহ দুইটি ময়না তদন্তের জন্য মালদা মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close